বুকস রিভিউ Archives - প্রেরণাজীবন https://preronajibon.com/category/বুকস-রিভিউ/ PreronaJibon Mon, 14 Feb 2022 17:40:27 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1 https://preronajibon.com/wp-content/uploads/2018/12/cropped-Favicn-32x32.png বুকস রিভিউ Archives - প্রেরণাজীবন https://preronajibon.com/category/বুকস-রিভিউ/ 32 32 জীবন বদলে দেওয়ার ৫ সেকেন্ড রুল । “ The 5 second rule ” Review https://preronajibon.com/the-5-second-rule-book-review/ https://preronajibon.com/the-5-second-rule-book-review/#respond Mon, 14 Feb 2022 15:21:50 +0000 https://preronajibon.com/?p=2395 7 Minute ReadThe 5 Second Rule Book Review in Bengali আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে থাকে যে কখনো কখনো মনে হয় যে,

The post জীবন বদলে দেওয়ার ৫ সেকেন্ড রুল । “ The 5 second rule ” Review appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
7 Minute Read

The 5 Second Rule Book Review in Bengali

আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে থাকে যে কখনো কখনো মনে হয় যে, আমি ঠিকমতো সাফল্য পাচ্ছি না । আমার যা যা করার ছিল তা করে উঠতে পাচ্ছি না । কী করে আমি আরো বেশি কর্মক্ষম হবো এবং কী উপায়ে আমার স্বপ্ন ও চাহিদাগুলো পূরণ করে একজন সফল মানুষ হতে পারবো !

আপনার কী মনে হয়েছে যে, কোনো উপায় যদি বের করতে পারতাম যাতে সময়গুলো কাজে লাগিয়ে আমার সব ধ্যান জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দিতাম লক্ষ্য পূরণের জন্য। কখনো কী নিজের প্রতি আস্থাটাই কমে যাচ্ছে আপনার ? যদি এমইনটাই হয় তাহলে আপনার জন্য মেল রবিন্স এর ‘The 5 second Rule’ বইটি অপেক্ষা করছে ।

সবসময় আমাদের হাতে সব বই এসে পৌঁছোয় না , আর যখন হাতে পাই তখন পড়ার সুযোগ আর থাকে না । তাহলে উপায় কী ? উপায় আছে । আসুন আমরা এক বৈঠকে ‘দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল ‘ বইটির মূল বিষয়টি খুব সহজে ও সংক্ষেপে বুঝে নিই । দেখুন কত সহজেই একটি বই মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে ।

সবার আগে আমাদের আলোচনার বিষয়কে কয়েকটি পর্বে ভাগ করে নিই –

‘The 5 Second Rule’ বইটির প্রাথমিক পরিচয় :

২০১৭ সালে আমেরিকায় প্রকাশিত হয় মেল রবিন্স এর লেখা বই “The 5 Second Rule: Transform Your Life, Work, and Confidence with Everyday Courage” । প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব বিখ্যাত জনপ্রিয় একটি মোটিভেশনাল ও লাইফ চেঞ্জিং এর বিষয় হয়ে ওঠে বইটি। ৫ টি পর্বে মোট ১৭টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত ২৫২ পাতার বইটির মধ্যে লেখক মেল রবিন্স খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করেছেন – 5 সেকেন্ড রুল বিষয়টি কী , 5 সেকেন্ড রুল কাদের জন্য , কীসের জন্য আপনি 5 সেকেন্ড রুল ব্যবহার করবেন , কীভাবে 5 সেকেন্ড রুল শুরু করবেন। লেখিকা মেল রবিন্স মূলত এই বই এর মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, প্রোডাক্টিভিটি এসবের উন্নতি করা এবং সময় নষ্ট করা বা অলসতার অভিশাপ থেকে বাঁচাতে চেয়েছেন। কয়েক বছর ধরেই বইটি হাজার হাজার মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে। আসলে জীবনকে কীভাবে গতিশীল করে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারা যায় , তার শুরুটা কীভাবে করবেন তা গল্পের মতো করে বলা হয়েছে এখানে।

লেখক মেল রবিন্স এর পরিচয় :

সম্পূর্ণ নাম মেলানি রবিন্স । জন্ম অক্টোবর 6, 1968 আমেরিকার কানাসাস সিটিতে। বর্তমানে তিনি একজন আমেরিকান আইনজীবী, টেলিভিশন হোস্ট, লেখক এবং মোটভেশনাল স্পিকার । রবিন্স CNN এর জন্য জর্জ জিমারম্যান ট্রায়াল কভার করার জন্য পরিচিত; তার TEDx বক্তৃতা, How to Screwing Yourself Over; এবং তার বই, The 5 Second Rule এবং The High 5 Habit। এছাড়াও তার একাধিক পডকাস্ট সিরিজ রয়েছে যা অডিবলে হোস্ট করা হয়েছে। তিনি বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগে ভুগছিলেন এবং ADD (attention deficit disorder) নামক স্নায়ুঘটিত রোগ ধরা পড়েছে বলে বর্তমানে বিশ্রামরত । ভেবে দেখুন জীবনের ৪০ বছর পার করে একজন মানুষ যদি দেখতে পান যে, এতদিন ধরে যা কিছু গড়ে তুলেছেন – তা চোখের সামনে ধ্বংস হচ্ছে একটু একটু করে – তাহলে কেমন লাগতে পারে ? রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নিজেদের সব টাকা ও সম্পদ বিনিয়োগ করে বিশাল ক্ষতি হবার পর মেল ও তাঁর স্বামী বড়সড় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁর স্বামী ক্রিস্টোফার রবিন্স যখন প্রতিদিন ভোর বেলা ঘর থেকে টাকার খোঁজে বের হয়ে যেতেন, রবিন্সকে তখন পাওনাদারদের ফোন ও বাড়িতে এসে ধমক দেয়া সামলাতে হত। এক সাক্ষাৎকারে চোখের জল মুছতে মুছতে সেই সময়কার অবস্থার বর্ণনা করেছিলেন মেল রবিন্স। একটা পর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করলেন, তিনি আসলে কিছুই করছেন না। জীবন যেমন চলছে, তিনিও তার সাথে গা ভাসিয়ে চলছেন। তাঁর অনেক সময়েই নিজের অবস্থা বদলানোর কথা মাথায় আসত। কিন্তু তিনি শুয়েই থাকতেন, অথবা বসেই থাকতেন – কোনও এ্যাকশন নিতে পারতেন না। এমনভাবে চলতে চলতেই একটা সময়ে তিনি এই ৫ সেকেন্ড রুল আবিষ্কার করলেন। এবং তখন থেকেই তাঁর জীবন বদলে যেতে শুরু করে।

5 সেকেন্ড রুল বিষয়টি কী :

সোজা কথায় বলতে গেলে এটি একটি অতি সাধারণ , গবেষণায় প্রমাণিত চিন্তা করবার পদ্ধতি – যা আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন সাধন করে । এই পদ্ধতি আসলে নিজের অলস ও কর্মহীন অভ্যাসের বিরুদ্ধে এমন এক সাহসের সৃষ্টি করে যা আমাদের গতিশীল ও কর্মমুখী করে । অর্থাৎ লক্ষ্য পূরণের দিকে যাত্রা শুরু করে । এখানে প্রসঙ্গত লেখিকার দেওয়া সাহসের সংজ্ঞাটি বলা যেতে পারেঃ- “ভয় পাওয়ার পরও কঠিন কাজটি করার জন্য পদক্ষেপ নেয়াটাই মূলত সাহস। নিজের আইডিয়া শেয়ার করা, সত্যি কথা বলা, অসম্ভব মনে হওয়ার পরও কোনও কাজে হাত দেয়া। এমনকি আরামের ঘুম বাদ দিয়ে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতেও সাহস লাগে। ” তবে ৫ সেকেন্ড রুল এর সবচেয়ে মজার দিকটি হল, এই পদ্ধতিটি ভীষণ রকম সহজ। ভাবলে অবাক হবেন, এত সহজে কীভাবে জীবনের বড় বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয় ; শুধু ৫ থেকে ১ পর্যন্ত গুনেই অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব।

লেখিকা মেল রবিন্স এর মতে, যদি কোনও কাজ করার কথা মনে আসে, তবে সেটা ৫ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে শুরু করতে না পারলে, আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে সেই কাজ থেকে বিরত রাখতে মনের মধ্যে নানান রকম অজুহাত তৈরি করবে। লেখিকা বলেন, “যদি কোনও জরুরী কাজের কথা মনে হয়, যেটা একটু কঠিন, আপনাকে ৫-৪-৩-২-১ গুনে সাথে সাথে কাজটি করার উদ্দেশ্যে জায়গা ছেড়ে নড়তে হবে – না হলে আপনার মস্তিষ্ক বেশিরভাগ সময়েই আপনাকে থামিয়ে দেবে” । উদাহরণ দিতে গিয়ে রবিন্স ব্যায়াম করার কথা বলেছেন, আপনি জানেন আপনার এখন শরীরচর্চা করা দরকার, কিন্তু আপনার মুড নেই। আপনাকে এই অবস্থায় ৫ থেকে ১ পর্যন্ত গুনতে হবে। তারপর সঙ্গে সঙ্গে যে অবস্থায় আছেন, সেই অবস্থা থেকে সরে গিয়ে শরীরচর্চা অথবা জিমের দিকে হাঁটা শুরু করতে হবে। কোনও রকম চিন্তা করা যাবে না। একবার কাজ শুরু করে দিলে মস্তিষ্ক তখন আর আপনাকে থামাতে চাইবে না, বরং কাজটি সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে উদ্দীপ্ত করতে শুরু করে দেবে।

গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের মস্তিষ্কের ডিজাইনই এমন যে, সে মানুষকে কষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে চায়। কিন্তু অনেক সময়ে কষ্ট না করলে আরও বড় কষ্টের সম্ভাবনা থাকে। সাইকোলজির ভাষায় একে বলে “এ্যাসার্ট কন্ট্রোল”। আপনি যখন সামনে থেকে পেছনে উল্টো গোনা শুরু করবেন আপনার মস্তিষ্ক তখন সেই গোনার কাজে শক্তি ও মনোনিবেশ করতে বাধ্য হবে। এর ফলে অজুহাত সৃষ্টি করার সুযোগই পাবে না। আর এই সুযোগে আপনি কাজ শুরু করে দিতে পারবেন, কোনও রকম ভয় বা দ্বিধা ছাড়া। আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশটি ‘ফোকাস’ এর জন্য দায়ী – তাকে বলে ”প্রিফ্রন্টাল করটেক্স” । আমাদের সচেতন কাজগুলো এই অংশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। আপনি যখন বারবার এই ৫ সেকেন্ড রুল ব্যবহার করে কাজ করবেন – তখন ধীরে ধীরে এই অংশটি ৫-৪-৩-২-১ গোনাকেই একটি কমান্ড হিসেবে ধরে নেবে ও কাজে নিযুক্ত করে দেবে।

তবে লেখিকার মতে এটা একদিন-দুদিনেই নাও হতে পারে। কিন্তু হতাশ না হয়ে আপনাকে চেষ্টা করে যেতে হবে । যে কোনও কাজের আগেই ৫-১ গুনে শুরু করুন। এভাবে ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটি আপানার মধ্যে স্থায়ী একটি অভ্যাস হয়ে দাঁড়াবে । ৫ থেকে ১ গোনার পর আপনি এ্যাকশন না নিয়ে থাকতেই পারবেন না একটা সময় ।

Read More : জীবন বদলে দেওয়ার মতো ৫-টি বই

কীসের জন্য আপনি 5 সেকেন্ড রুল ব্যবহার করবেন :

লেখিকা মেল রবিন্স বলেন, ৫ সেকেন্ড রুল ব্যবহার করতে হলে আপনাকে ২টি খুব সাধারণ পদক্ষেপ নিতে হবে। যথা –


i) যখনই কোনও প্রয়োজনীয় কাজ করতে হবে, বা কোনও প্রয়োজনীয় কাজ করার সময় হবে – তখনই ৫ থেকে ১ পর্যন্ত গুনুন ।
ii) ৫ থেকে ১ গোনার সঙ্গে সঙ্গে Start বলে কাজ শুরু করে দিন।


উদাহরণ হিসেবে লেখিকা বেশ কিছু কাজের কথা তুলে ধরেছেন, যাতে বিষয়টি সহজ হয়। যেমন –


১। লেখিকা এই 5 সেকেন্ড রুল অভ্যাস রপ্ত করার জন্য প্রথমেই “ওয়েক আপ চ্যালেঞ্জ” এর চর্চা করতে বলেছেন। আপনার ঘুম থেকে ওঠার নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে এ্যালার্মটিকে সেট করুন। এ্যালার্ম শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ৫ থেকে ১ গুনুন, এবং ১ গোনার সঙ্গে সঙ্গেই বিছানা ছেড়ে এক সেকেন্ডও দেরি না করে উঠে পড়ুন।

২। আপনার হয়তো মানুষের সামনে কথা বলার সাহস কম। কোনো মিটিং বা এই ধরনের জনসমক্ষে বলার মত কথা মাথায় এলেও আপনি বলতে পারেন না। এরকম সময় এলেই মস্তিষ্কের নানা অজুহাত সৃষ্টি করা শুরু হয়। এ ধরণের পরিস্থিতিতে আপনি কোনও দরকারি কথা মাথায় এলেই ৫ থেকে ১ পর্যন্ত গুণেই কথাটি বলে ফেলুন। ১ গোনার পর সরাসরি এ্যাকশনে চলে যান। এক সেকেণ্ডও সময় নষ্ট করবেন না। দেখবেন আপনার কথা বলতে কোনও সমস্যাই হচ্ছে না। অবাক হয়ে যাবেন আপনার সাহস ও আত্মবিশ্বাস দেখে। অবাক হয়ে ভাববেন, আপনি তাহলে এটা পেরেছেন।

৩। যেমন ধরে নিন আপনার ওজন বেড়ে যাচ্ছে। ভালো করেই জানেন যে আপনার প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম করা দরকার। কিন্তু অলসতার জন্য সকালে উঠতেই পারছেন না। এক্ষেত্রে ৫ থেকে ১ গোনার সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিয়ে উঠেইসোজা এক্সারসাইজ করতে শুরু করুন। একবার এই অভ্যাস হয়ে গেলে আপনার কাছে অলসতাই হার মানবে।

৪। অনেক বড় বড় সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান মানুষের জীবনকে শেষ করে দিয়েছে এমন কিছু অভ্যাস যেগুলিকে এই 5 সেকেন্ড রুল প্রয়োগ করে দূর করা সম্ভব । যেমন- কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস বা ঢিলেমি । আপনার যদি অসাধারণ মেধা , সৃজন ক্ষমতা বা দুর্দান্ত কোনো গুণ এই অভ্যাসের কারণে স্ফুরিত হতে না পারে, তাহলে অসামান্য উপকার পেতে পারেন এই 5 সেকেন্ড রুল প্রয়গের দ্বারা। তাই কাজের কথা ভাবুন আর ৫-৪-৩-২-১ বলে শুরু করে দিন আর দেখুন ম্যাজিক । আপনার মস্তিষ্ক অজুহাত বানানোর সুযোগই পাবে না।

মোটিভেশন ও 5 সেকেন্ড রুল :

আমাদের জীবনে এমন কিছু অভ্যাস থাকে যেগুলি ব্যক্তিত্বের পক্ষে এবং সম্পর্কের পক্ষেও ক্ষতিকারক । সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- সন্দেহ, নীরব থাকা, অ-নিরাপত্তাবোধ , দুশ্চিন্তা, দ্বিধা , সিদ্ধান্তহীনতা, ভয় ইত্যাদি। অর্থাৎ আপনার জীবনের যাবতীয় নেগেটিভ দিকগুলিকে দূর করে জীবনে হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল ও সার্থক মানুষ। এই গ্রন্থে 5 সেকেন্ড রুল আলোচনার প্রসঙ্গে লেখা এরকম কিছু মোটিভেশনাল কথা রয়েছে যেগুলি খুব মূল্যবান। এই 5 সেকেন্ড রুল শেখার ও প্রয়োগের পাশাপাশি আপনি আপনার জীবনের অর্থকেও নতুন করে খুঁজে পাবেন সেইসব উক্তির দ্বারা। কয়েকটি উক্তি এখানে তুলে ধরা হল :

১। আপনি নিজে কিন্তু একজনই । এবং আপনার মতো আর একজন কোনোদিনই আসবে না । এটাই আপনার শক্তি।
২। আপনি কি এমন কাউকে খুঁজছেন যে আপনার জীবন বদলে দিতে পারে ? তাহলে আয়নায় দেখুন।
৩। ৫ সেকেণ্ডের মনোবল বদলে দেয় সবকিছু।
৪। আপনি যদি আপনার সকালের কর্মসূচি পরিবর্তন করতে পারেন , তবে সবকিছুই পরিবর্তন করতে পারেন।
৫। হয় আপনি দিনটিকে চালাবেন , না হয় দিনটি আপনাকে চালাবে।
৬। আপনার সকালগুলোর মালিক হোন আপনি।
৭। প্রস্তুত হবার আগেই শুরু করে দিন। তৈরি হতে হবে না এগিয়ে যান।
৮। নিজেকে ক্ষমা করুন।
৯। আপনাকে হয় কোনো একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে , না হয় একটি অজুহাত।
১০। ভয় পাওয়া খারাপ না । এর মানে আপনি সত্যি সত্যি কোনো সাহসী কাজ করতে যাচ্ছেন।
১১। মানুষকে আপনার স্বপ্নের কথা বলবেন না । তাদেরকে দেখান।

তাহলে বন্ধুরা, আজ আমরা শিখলাম ,পড়লাম , জানলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের মূল কথাগুলো। আশা করি আজকের লেখাটি খুব কাজে লাগবে জীবনে। ভালো কিছু শেয়ার করার মাধ্যমে তাঁর গুণ আরো বেড়ে যায় । তাই এখুনি এই পোস্টটি শেয়ার করে আপনার প্রিয় কোনো মানুষের জীবনে সত্যি উপকার করতে পারেন। আমাদের (ফেসবুক পেজ) সঙ্গে থাকুন আর এরকম আরও নতুন নতুন বিষয়ে লেখা পড়তে থাকুন।

The post জীবন বদলে দেওয়ার ৫ সেকেন্ড রুল । “ The 5 second rule ” Review appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/the-5-second-rule-book-review/feed/ 0
২০১৯ এর সর্বাধিক বিক্রিত কিছু মোটিভেশনাল বই। জেনে নিন ও পড়ে দেখুন https://preronajibon.com/best-selling-motivational-books-2019/ https://preronajibon.com/best-selling-motivational-books-2019/#respond Wed, 25 Sep 2019 11:22:57 +0000 https://preronajibon.com/?p=842 3 Minute Read২০১৯ এর সর্বাধিক বিক্রিত কিছু মোটিভেশনাল বই 1. Life’s Amazing Secrets গৌড় গোপাল দাস বর্তমান যুগের একজন অন্যতম জনপ্রিয় মোটিভেশনাল

The post ২০১৯ এর সর্বাধিক বিক্রিত কিছু মোটিভেশনাল বই। জেনে নিন ও পড়ে দেখুন appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
3 Minute Read

২০১৯ এর সর্বাধিক বিক্রিত কিছু মোটিভেশনাল বই

1. Life’s Amazing Secrets

গৌড় গোপাল দাস বর্তমান যুগের একজন অন্যতম জনপ্রিয় মোটিভেশনাল স্পিকার এবং Lifestyle Coach

বর্তমান যুগে মানুষের জীবনের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান ও জীবনকে পরিপূর্ন ভাবে উপভোগ করা সহ বিভিন্ন্য বিষয়ে তিনি তার YouTube চ্যানেলে আলোচনা করেন, যা ইতিমধ্যে ২০ লক্ষ্যেরও বেশি মানুষ ফলো করছে। তিনি মানুষের জীবনশৈলী সম্পর্কে তার মতামত তুলে ধরেছেন তার প্রকাশিত প্রথম বই Life’s Amazing Secrets এ। বইটি অবশ্যই সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।

Buy From Amazon

2. The 5 AM Club

রবিন শর্মার লেখা The AM Club , ২০১৯ এ প্রকাশিত এই বইটিকে আমাদের লিস্টে রাখার কারন সারা বিশ্বের সফল মানুষদের সকালের অভ্যাসগুলি অনুসরণ করে বইটি লেখা হয়েছে। সবাই এই বইটি অনুসরণ করে নিজের জীবনে সফল মানুষদের মত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে লেখকের বিশ্বাস। গল্পের মাধ্যমে বর্ণিত বইটির ছত্রে ছত্রে রয়েছে চমকপ্রদ শিক্ষা। পড়তে পড়তে কখনোই বিরক্তি লাগেনা।

Buy From Amazon

3. The Alchemist

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহোর লেখা। The Alchemist বইটি সেসময় আন্তর্জাতিক বাজারে বেস্ট সেলার ছিল। আজও এর জনপ্রিয়তা ও প্রয়োজনীয়তা একই আছে। আত্ম্শিক্ষামূলক এই উপন্যাসটি ভাগ্য অনুসন্ধানকারী মানুষের কাছে এক জাদুকরী ক্ষমতা সম্পন্ন বই বলে পরিচিত। জীবনে স্বপ্ন পূরণের পথে সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগায়। অবশ্যই সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই।

Buy From Amazon

4. Think & Grow Rich

নেপোলিয়ন হিলের লেখা Think & Grow Rich বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে। বর্তমান যুগেও এই বইটি সমান ভাবে জনপ্রিয়, এই বইটি পার্সোনাল ডেভলপমেন্টসেলফ ইমপ্রুভমেন্ট এ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বইটিতে চিন্তাশক্তি,আশা, বিশ্বাস, প্লানিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

Buy From Amazon

5. The Power of Your Subconscious Mind

অবচেতন মনের অসীম শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে কেউ হয়ে উঠতে পারে সফল ও নিজের জীবনের স্বপ্নপূরণকারী। Dr. Joseph Murphy এর লেখা The Power of Your Subconscious Mind বইটি তেমনিভাবে অবচেতন মনের শক্তিকে কাজে লাগানোর প্রত্যক্ষ শিক্ষা দেয়। অবচেতন মন কী ? কীভাবে তা কাজ করে ? কীভাবে তার শক্তিকে বাড়ানো যায় এবং প্রত্যেকটি মানুষ কীভাবে হয়ে উঠতে পারে অসীম ক্ষমতার অধিকারী তা এই বইটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত এই বইটি সর্বাধিক বিক্রিত বই এর একটি। এতে আধ্যাত্মিকতার  উন্নয়ন, ভীতি দূর করা, সম্পর্কের উন্নয়ন ও সুখী জীবন যাপনের শিক্ষা পাওয়া যায়। বইটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখা প্রয়োজন।

Buy From Amazon

6. The Power of Positive Thinking

Norman Vincent Peale এর লেখা The Power of Positive Thinking বইটি ১৯৫২ সালে প্রকাশ হবার পর সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে। সেল্ফ ডেভেলপমেন্টের শিক্ষার জন্য এই বইটি অতুলনীয়। লেখক। বইটিকে ৩০১ পৃষ্ঠার বিস্তারে সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন কিভাবে ইতিবাচক চিন্তা মানুষের জীবনকে সফল ও সুখী করে তুলতে পারে। তাই তুমিও এই বইটির থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও দর্শনকে কাজে লাগিয়ে নিজের জীবনকে আরও সফল ও সুখী করে তুলতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

Buy From Amazon

লিস্টে দেওয়া ৬ টি বই পরে থাকলে তা তোমাদের কেমন লেগেছে তা জানাতে পারো আর না থাকলে সংগ্রহ করে নিতে পারো। আর কোনো বই যদি তোমাদের এই লিস্টে দেখতে ইচ্ছে করে তাহলে তা আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাও। লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো আর আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকো।

The post ২০১৯ এর সর্বাধিক বিক্রিত কিছু মোটিভেশনাল বই। জেনে নিন ও পড়ে দেখুন appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/best-selling-motivational-books-2019/feed/ 0
জীবন বদলে দেওয়ার মতো ৫-টি বই https://preronajibon.com/life-changing-five-books-review/ https://preronajibon.com/life-changing-five-books-review/#respond Fri, 16 Aug 2019 06:53:56 +0000 https://preronajibon.com/?p=757 11 Minute Readজীবন বদলে দেওয়ার মতো ৫-টি বই Think before you speak . Read before you think . Fran Lebowitz “ Wear

The post জীবন বদলে দেওয়ার মতো ৫-টি বই appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
11 Minute Read

জীবন বদলে দেওয়ার মতো ৫-টি বই

Think before you speak . Read before you think .

Fran Lebowitz

“ Wear the old coat and buy the new book .”
– Austin Phelps

বইয়ের কোনো বিকল্প নেই । বিশ্বের সফল মানুষদের সাফল্যের পেছনে বই-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । বই যেমন শারীরিক মানসিক অনেকগুলি বিষয়ের উৎকর্ষ সাধন করে , তেমনি জীবন বদলে দিয়ে সফল ও উন্নত মানের করে তুলতে পারে বই। আমরা পড়তে ভালোবাসি । অনেক সময় প্রতিদিনের সংবাদ পত্রের এমন সমস্ত লেখাও পড়তে থাকি যেগুলি আমাদের ‘ কিছু করার নেই’ ব’লে বা ‘ টাইম পাস ‘ করার জন্যই পড়ি । শুধু অবসর বিনোদনই নয় , নিয়ম করে বই পড়লে ভেতরে এমন একটা তাগিদ অনুভব করতে পারি যা মানসিক ও বাহ্যিক জগতে পরিবর্তন এনে দিতে পারে ।

আজকে আমরা তোমাদের এমন কয়েকটি বই নিয়ে আলোচনা করব যা ভালোভাবে বুঝে উঠতে পারলে এবং জীবনে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে জীবন বদলে অনেক উন্নত হয়ে উঠতে পারে ।

The-Alchemist-review

(1) The Alchemist – Paulo Coelho দ্য অ্যালকেমিস্ট – পাওলো কোয়েলহো

When you want something , all the universe conspires in helping you to achieve it.

Paulo Coelho, The Alchemist , page 25

ব্রাজিলিয়ান লেখক , গীতিকার এবং বিশ্বখ্যাত ঔপন্যাসিক পাওলো কোয়েলহো যে বইটির জন্য বিশ্বে খ্যাত হয়েছেন তা হল দি অ্যালকেমিস্ট ।

বইটি একটা রাখাল বালকের গল্প নিয়ে রচিত । কিন্তু এর ভেতরে যে শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে তাও সংক্ষেপে কাহিনির শেষে এখানে দেখানো হলো :

কাহিনী সংক্ষেপ :
গল্পের মূল চরিত্র একজন রাখাল বালক , নাম স্যান্টিয়াগো । তার পিতার জীবনে স্বপ্ন ছিল দেশ বিদেশ ঘুরে দেখার । স্যান্টিয়াগো লক্ষ্য করলো যে , যে দোকানে সে সাময়িক কাজ করত , সেই দোকানের মালিকেরও স্বপ্ন ছিল হজ-এ যাবার । কিন্তু স্যান্টিয়াগো উপলব্ধি করলো যে এদের সবার জীবনে স্বপ্ন আছে , কিন্তু কেউ তারা সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সেভাবে সচেষ্ট নয় ।

স্যান্টিয়াগোর স্বপ্ন ছিল পিরামিড দেখার এবং সেখানে থাকা রত্ন ভান্ডার উদ্ধার করা । অনেক বাধা বিপত্তি সে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে কীভাবে স্বপ্ন পূরণ করল —– এটাই বইটির মূল বিষয় ।

শিক্ষা :-
এবারে আসা যাক মূল কথায় । এই বইটি থেকে আমরা যে বিষয়গুলো শিখতে পারি , সেগুলি হল : –

(i) প্রত্যেকের জীবনে কোনো না কোনো স্বপ্ন আছে ।
(ii) স্বপ্ন পূরণের জন্য উঠে পড়ে লেগে থাকতে হয় , ততক্ষণ থামা যাবে না — যতক্ষণ না স্বপ্ন পূরণ হয় ।
(iii) স্বপ্ন পূরণের পথে অনেক বাধা আসবে –ব্যক্তি বা ঘটনা যে কোনো রূপেই তা আসবে ।
(iv) এই দুনিয়ায় সব্বাই চাইবে যে তুমি তাদের মতো হও , তাদের স্বপ্নই পূরণ করো ।
(v) কারো কাছে শুনে শুধু নয় — সত্যিকারের শিক্ষালাভ হবে কাজে নেমেই । ভাবলে হবে না কাজেই নেমে পড়তে হবে ।
(vi) জীবনে সুযোগ বারবার আসবে না । সঠিক সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে হবে ।
(vii) নিজের লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা আর কর্তব্যের মধ্যে ব্যালান্স করতে হবে ।
(viii) Live in the Present . জীবন পরিবর্তনের জন্য তুমি শুধু বর্তমানকেই কাজে লাগাতে পারো ।
(ix) ব্যর্থতার ভয় (fear of failure)-কে জয় করতে হবে । মনে রাখতে হবে ব্যর্থতার চেয়ে ব্যর্থতার ভাবনাকেই মানুষ বেশি ভয় পায় ।
(x) আত্মবিশ্বাস ও সাহসকে পাথেয় করেই এগিয়ে যেতে হবে ।
এরকম অনেক মূল্যবান শিক্ষা আমরা বইটির ছত্রে ছত্রে পাই । আরো অনেক বিষয় রয়েছে , সেসব জানতে বইটি পড়ে ফেলাই ভালো ।

The-Monk-Who-Sold-His-Farrari-Review

(2) The Monk Who Sold His Ferrari – Robin sharma

আপন ঐশ্বর্য ত্যাগ করা এক সন্ন্যাসী
—- রবিন শর্মা

“…If you don’t even know where you are going, how will you ever know when you get there? “
—- Robin Sharma , ” The Monk Who Sold His Ferrari “

কাহিনি সংক্ষেপ:-
গল্পটি একজন আইনজীবীর । যার জীবনে ধন-সম্পদ-যশ সবই ছিল , কিন্তু শান্তি ছিল না । একদিন তিনি যখন কোর্টে প্র্যাক্টিস করছিলেন , হঠাৎ-ই হার্ট এটাক হয়ে তিনি পড়ে যান । ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানান যে তার হার্ট এত চাপ সহ্য করতে পারবে না । একথা শুনে তাঁর চেতনার উদ্রেক ঘটে এবং তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁকে শান্তির খোঁজে বের হতেই হবে । তিনি একে একে বাড়ি ঘর অফিস সব বিক্রি করে দিলেন । এমনকি তার প্রিয় ফেরারি গাড়িটিও । শান্তির খোঁজে বেরিয়ে তিনি হিমালয়ের কোলে এক সন্ন্যাসীর দেখা করেন এবং তার কাছ থেকেই শান্তির পাঠ গ্রহণ করেন ।
সেখানেই তিনি যে গল্পটি শোনেন তা-ই তার জীবনে বদল আনার শিক্ষা দেয় । আর এভাবে এই গল্পটিই তার জীবনে শান্তির পাঠ হয়ে ওঠে ।
একটি সুন্দর বাগানে একটি লাইট হাউস , যেখান থেকে একজন সুমো রেসলার বেরিয়ে এল । সুমো রেসলার স্বল্প তারের নির্মিত পোশাক পরে ছিল । কিছুর ওপর সে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল , আসলে সেটা একটা ঘড়ি ছিল । পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারায় সে । অনেক্ষন অজ্ঞান থাকার পর সুমিষ্ট ফুলের ঘ্রানে তার চেতনা জাগে । এরপর সুমো রেসলারটি ডায়মন্ড বিছানো আঁকা বাঁকা পথে চলে গেল ।

শিক্ষা :


এই গল্পটির মধ্যে দিয়েই মত ৭টি বিষয়ের শিক্ষা দিয়েছেন লেখক খুব সুন্দরভাবে । এই সাতটি উপদেশ বা শিক্ষাকেই শান্তিপূর্ণ সফল জীবন যাপনের পাঠ বলা যেতে পারে ।
সেই সাতটি বিষয় ও তার অর্থ খুব সংক্ষেপে তুলে ধরলাম :-

১.বাগান : বাগানের প্রতীকে মনের চিন্তা ভাবনাকে বোঝানো হয়েছে । প্রতিদিন মানুষের মাথায় প্রায় ষাট হাজার চিন্তা আসে । আর এর মধ্যে সিংহভাগ হলো গত দিনের পুরোনো বিষয় । তাই সুন্দরভাবে পজিটিভ চিন্তার দ্বারা মনকে সাজানো উচিত ।

২. বাতিঘর : বাতিঘর হলো জীবনের লক্ষ্যের প্রতীক । লক্ষ্য না থাকলে কোনো কাজই করার মানে নেই । তাই সবার আগে দরকার নিজের জীবনের লক্ষ্য স্থির বা goal set করা ।

৩. সুমো রেসলার : নিজের উপর আস্থা রাখা । তুলোনা করা কখনোই উচিত নয় । আর তুলনা যদি করতেই হয় , নিজের সঙ্গেই করা উচিত । গতকাল আমি যা ছিলাম , আজ কতটা উন্নত করতে পারলাম তার মূল্যায়ন করা ।

৪. সুমো রেসলার পরিহিত ছোট পোশাক(তার) : ছোটো ছোটো অভ্যাসগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া । অনেকগুলি সূক্ষ্ণ সুতো দিয়ে তৈরি দড়ি দিয়ে বড় জাহাজও বাঁধা যায় । তাই নিজের ছোট ছোট অভ্যাসের দ্বারাই বড় স্বপ্ন সফল করা সম্ভব ।

৫. ঘড়ি : এই বইতে ঘড়ির দ্বারা বোঝানো হয়েছে সময়কে ।
সত্যিই তো একমাত্র সময়কে কাজে লাগিয়েই আমরা জীবনকে পাল্টে দিতে পারি । তাই সবার আগে সময়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ।

৬. ফুলের ঘ্রাণ : নিজেকে অন্যের কল্যানে উৎসর্গ করা প্রয়োজন । কারণ , যে হাত অন্যকে ফুল দেয় সেই হাতে ফুলের সুন্দর গন্ধ লেগে থাকে । তাই একাধিক মানুষের মনে সুন্দর খুশি ছড়াতে পারলে নিজের জীবনও হয়ে ওঠে ফুলের মতো সুন্দর ।

৭. ডায়মন্ড ঘেরা পথ : এই প্রতীকে বোঝানো হয়েছে বর্তমানকে । মানুষের হাতে একটাই ব্যবহারযোগ্য সময় আছে , তা হলো বর্তমান । অতীত নয় ভবিষ্যৎও নয় — শুধু বর্তমানকে সঠিক ব্যবহার করেই আমরা সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবন গড়তে পারি ।
এইভাবেই গল্পের ভেতরে সন্ন্যাসীর ধাঁধায় সাতটি উপদেশের মাধ্যমে বইটিতে আমরা দারুন শিক্ষা পাই । যা জীবন বা জীবনের ধারণাটাই বদলে দিতে পারে । আরও অনেক বিষয় রয়েছে বইটিতে , জানতে হলে বইটিই হাতে তুলে নিতে হবে ।

The-Magic-of-thinking-big-review

(3) The Magic Of Thinking Big / বড় স্বপ্নের বড় জাদু – David J. Schwartz

” Hope is a start. But hope needs action to win victories . ” —-David J. Schwartz

আমাদের পছন্দের আরেকটি বই যা জীবন বদলে দিতে পারে সেটা হল The Magic Of Thinkinh Big
——- David J. Schwartz

বইটির বাংলা সংস্করণ এর নাম ‘বড় স্বপ্নের বড় যাদু ।’
মূল বিষয় : এই বইটিতে কতগুলি বিষয়কে কেন্দ্র করে মোট ১৩ টি অধ্যায় সাজানো হয়েছে। সুন্দর ভাবে গল্পের মাধ্যমে সাজানো কথাগুলি বেশ সুখপাঠ্য । এই বইয়ের বাংলা অনুবাদটিও খুব সুন্দর ভাবে , সুন্দর ভাষায় অনূদিত ।
এই বইতে যেসব বিষয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ বলে হয়েছে
তা এর মোট তেরটি অধ্যায়ের সুচিপত্র দেখলেই বোঝা যাবে :–

খুব গভীরভাবে পাঠ করলে যে বিষয়গুলো জীবনকে অন্য মাত্রা দেবার শিক্ষা দেবে সেগুলি সংক্ষেপে হল :

১. জীবনে যে কোন কিছু অর্জন করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস অর্জন করা । সাফল্যে আস্থা রাখলে তবেই তা অর্জন করা যায় ।
২. নেতিবাচক চিন্তা ত্যাগ করা প্রয়োজন । কারণ একটি নেতিবাচক চিন্তা আরেকটি নেতিবাচক চিন্তার জন্ম দিয়ে থাকে ।
৩. সর্বদা আশাবাদী থাকা দরকার কারণ পজিটিভ থিংকিংই পজিটিভ রেজাল্ট দিতে পারে ।
৪. দৃঢ় ভাবে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব ।
৫. শরীর ও স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে হবে , কেননা সুস্থ শরীরেই সুস্থ মন বাস করে ।
৬. বড় স্বপ্ন দেখলে তবেই বড় সাফল্য অর্জন করা যায়।
৭.ভাগ্যকে দোষ দেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি পরাজয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখা জরুরি। কোথায় কি ভুল হয়েছে তা খুঁজে বার করতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন ভাগ্যকে দোষ দিয়ে জীবনের বৃহত্তর লক্ষ্যে পোঁছানো যায় না।
এই বইতে সুন্দর ভাবে সাজানো রয়েছে 30 দিনের গাইড যা যে কোন মানুষ পালন করে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করতে পারে ।
এই বইটি এইজন্য ভালো ও কার্যকরী যে , এতে সহজভাবে বাস্তব জীবনের সত্যটিকেই তুলে ধরা হয়েছে । প্রত্যেকেই এর বক্তব্যের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারবে । তো পড়ে তো দেখাই যায় — কী বলো বন্ধুরা ।

The-5am-Club-Review

(4) The 5AM Club /দি 5 এ.এম ক্লাব – Robin Sharma

All change is hard at first, messy in the middle and gorgeous at the end. .

The 5 AM Club, Chapter 4

গল্পটি শুরু হয়েছে একটি বড় বিজনেস সেমিনার দিয়ে ।
যেখানে একজন বড় বিজনেসম্যান বক্তব্যের মাধ্যমে অন্যদের উদ্দীপ্ত করছিলেন । অংশগ্রহণকারী শ্রোতাদের মধ্যে দু’জন ছিলেন , যাদের নিয়ে এই গল্পের কাহিনী বিধৃত হয়েছে । সেই দু’জনের মধ্যে একজন ছিলেন অবসাদগ্রস্ত বিনিয়োগকারী আরেকজন ছিলেন হতাশ শিল্পী । একজন ছিলেন হতাশাগ্রস্ত অপরজন ছিলেন সফল হবার স্বপ্নে বিভোর ; কিন্তু কেউই তাদের সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না । সেমিনারে বক্তা অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাঝে মাঝেই সেমিনারে বিরতি নিতে হচ্ছিল । এরই কোন অবসরে ওই দু’জন মানুষ নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা-পরিচয় করে নিচ্ছিলেন । এমন সময় তাদের পেছনে একজন এমন মানুষ আবির্ভূত হলেন , যার পোশাক আশাক ছিল একদম দরিদ্র মানুষের মতো । আশ্চর্যের বিষয় তার হাতে ছিল লক্ষ ডলার মূল্যের ঘড়ি ।

উদ্যমহীন ব্যবসায়ীটি ওই তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলেন যে , তিনি আসলে দরিদ্র কেউ নন — একজন বিলিওনিয়ার । এমন দরিদ্র পোশাক পরার কারণ হিসেবে তিনি জানালেন , তিনি যেন কখনোই ভুলে না যান যে তিনি কীরকম পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছেন ।

কথা প্রসঙ্গে ওই বিলিওনিয়ার জানান , তিনি এমন এক World Class Technique জানেন যা পৃথিবীর বড় বড় সফল ব্যক্তিরা সাফল্য পাবার জন্য ব্যবহার করে থাকেন ।
এবং তিনি কথা প্রসঙ্গে ওই দু’জনকে বলেন যে তিনি তাদের ওই ওয়ার্ল্ড ক্লাস টেকনিক বিনামূল্যে শেখাতে রাজি আছেন , যদি তারা দু’জন পরদিন ভোর পাঁচটায় দেখা করতে পারেন ।

পরেরদিন যথা সময়ে ঐ বিনিয়োগ ব্যবসায়ী এবং ঐ শিল্পীকে নিয়ে বিলিওনিয়ার মানুষটি তাঁর নিজস্ব প্লেনে যাত্রা শুরু করলেন । তাদের আলোচনা এখানেই শুরু হয় ।

বিলিওনিয়ার জানালেন যে ভোর পাঁচটায় ওঠার ফলেই তিনি আজকের জায়গায় আসতে পেরেছেন । আর এই ভোর পাঁচটায় ওঠার ফলেই তাঁর সৃজনশীলতা (creativity ) বেড়ে যায় , ক্ষমতা (energy) দ্বিগুন হয় আর উৎপাদনশীলতা (Productivity) তিনগুন হয়ে যায় ।
তিনি একে একে বলতে থাকেন যে , আমাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কের ক্ষমতা নির্দিষ্ট । প্রতি মুহূর্তে কাজ করার বা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আছে । আমরা প্রতিদিন আমাদের মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখি গুরুত্বহীন কাজগুলিতে , যেমন সংবাদপত্র , টিভি , সোশ্যাল মিডিয়া প্রভৃতি । যার ফলে আমাদের মস্তিষ্কের Energy কমতে থাকে । দুপুরের পর কোনো কাজে তাই আর মনোযোগ দিতে পারি না , –ক্রমশঃ অবসন্ন হয়ে পড়তে থাকি । আর তার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক বিষয়ের কাজের ভার বাড়তে থাকে , এভাবে ক্রমে জীবন অতীষ্ট হয়ে উঠতে থাকে আমাদের ।
বন্ধুরা , এভাবেই রবীন শর্মা তাঁর গল্পের মাধ্যমেই বিষয়গুলি তুলে ধরেন । চার বছর ধ’রে লেখা “The 5AM Club”-এও এই গল্পটির মাধ্যমে মূল বিষয়টি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা আমরা পাঁচটি পয়েন্টে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরছি :

a) 20/20/20 Formula :


এই বইটিতে কাহিনীর মূল ব্যক্তি ওই বিলিওনিয়ার সাফল্যের যে প্রথম কথাটি বললেন তা হলো এই 20/20/20 Formula ।


একে বলা হয়েছে Victory Hour । সকাল ৫-টা থেকে ৬-টা পর্যন্ত সময়কে ২০মিনিটের তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে । এই তিনটি পর্যায় এবং তার কার্য কলাপ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা হল :


5am to 5:20am 1st 20 minutes — move — exercise
5:20am to 5:40am 2nd 20 minutes –reflect — meditation , deep thinking , planning etc .
5:40am to 6:00am 3rd 20 minutes — Grow

ঘুম থেকে উঠে 20 মিনিট ঘাম নিঃসরণকারী ব্যায়ামের ফলে শরীরের cortisone হরমোনের নিঃসরণ কমে যায় । এই হরমোন ভয়ের উদ্রেক করে থাকে । BDNF ( Brain Derived Neurotropic Factor ) প্রোটিন যা মস্তিষ্কের কোষকে মেরামত করে ও স্নায়বিক সংযোগের উন্নতি ঘটায় । ব্যায়ামের ফলে সেটা বৃদ্ধি পায়।

b) Freedom from Destruction :


মানুষের attention কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে attention economy । সারা বিশ্বে আজ সোশ্যাল মিডিয়া , টিভি , ইন্টারনেট , ইউটিউব জাঁকিয়ে ব্যাবসা করছে এই attention economy দ্বারাই । কিন্তু সফল ব্যক্তিরা এই ইকোনোমির ফাঁদ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখেন । ইন্টারনেট ফ্রি নয় আসলে আমরাই ফ্রি হয়ে উঠছি ওই ব্যাবসায়ীদের কাছে । আমরা কী দেখছি , কী খুঁজছি সবই attention economy তে ধরা পড়ে । আর সেই অনুসারেই আমাদের সামনে একটার পর একটা মনোলোভা বিষয় উপস্থাপিত হতে থাকে । অর্থাৎ আমাদের attention অন্যের ব্যাবসার বিষয় হয়ে উঠছে । এভাবেই আজ ক্রমে আমরাও তাদের দাস হয়ে উঠছি । আমাদের মূল্যবান সময় , মেধা , শক্তি হারিয়ে আমরা একই রকম থেকে যাচ্ছি দিনের পর দিন ।

সফল হতে এই সব Destraction থেকে মুক্ত হতে হবে । এককথায় time wasting activity থেকে মুক্ত হওয়ার কথাই বলা হয়েছে বইটিতে ।

c) Three Step Success Formula :

এই বইতে প্রাপ্ত আরেকটি শিক্ষণীয় বিষয় হল 3 step formula ।
Better awareness , Better choice and better results .খুব ভালোভাবে সচেতন হলেই তার better result-ও মিলবে । সচেতনতার ফলে সবকিছু দেখার ও বিবেচনার নজর বদলে যাবে এবং খোলা মনের উদার দৃষ্টির অধিকারী হওয়া সম্ভব । আর তার ফলেই নিজের পছন্দগুলোও better হতে শুরু করবে । যার ফলশ্রুতিতে better result মিলতে বাধ্য ।

d) The Four Interior Empires :


মানুষের বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে যেমন interior বা বসবাসের জন্য ভেতরের স্থানটিকে সুন্দর ও সুখকরভাবে সাজানোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয় । তেমনি আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে চারটি empires কেও সুন্দরভাবে বিনির্মাণ করা প্রয়োজন । এই চারটি interior empires হলো :-
I) Mindset
II) Heartset
III) Healthset
IV ) Soulset

e) The Habit Instollation Process :


এই বইটিতে লেখা একটি দারুন শিক্ষণীয় বিষয় হল , যে কোনো অভ্যাস গড়ে তুলতে 66 দিন সময় লাগে ।প্রথম 22 দিন পুরোনো অভ্যাস ত্যাগ করতে কাজে লাগবে । এই পর্যায়টি খুব কঠিন । নতুন অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয় এই সময় । কষ্ট করে প্রথম 22 দিন কাটানোর পর দ্বিতীয় 22 দিন নতুন অভ্যাস গড়ে ওঠার জন্য । আর তৃতীয় 22 দিন ভালো লাগতে শুরু করবে । এই দিনগুলোতে নতুন অভ্যাস গুলি Subconscious mind এ স্থান নিতে শুরু করবে ।
এর পর নতুন অভ্যাসই হয়ে যাবে স্বাভাবিক রুটিন ।
এইভাবে যত কঠিনই হোক না কেন যারা নিয়মিত কাজগুলি করেন তাদের কাছে বিষয়গুলি সহজ হয়ে যায় । আর জীবনে সাফল্যের পর সাফল্য অর্জন করতে করতে সাফল্যের শিখরে অবস্থান করেন । অন্যদিকে বাকিরা তাদের ঈর্ষা করে আর নিজেদের ভাগ্যকে দোষ দিতে থাকে । সেইসঙ্গে সমালোচনা , নিন্দা -মন্দের ভীড়ে জীবন বিসর্জন দিয়ে শেষ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ।

Rich-dad-Poor-dad-Review

(5) Rich Dad Poor Dad /রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড – Robert T. Kiyosaki

You’re only poor if you give up. The most important thing is that you did something. Most people only talk and dream of getting rich. You’ve done something .

Robert T. Kiyosaki/ Rich Dad Poor Dad

রবার্ট টি কিওসাকির নিজের জীবন থেকে লেখা এই বইটি এক কথায় অদ্বিতীয় । বইটিতে লেখক জানান তার দুজন বাবা ছিলেন । একজন ধনী বাবা আর অপরজন গরিব বাবা । একজন ক্লাস এইটও পাশ করেননি অপরজন উচ্চশিক্ষিত । দুজনেই নিজেদের স্বপ্ন পূর্ণ করেছেন দুজনেই পরিশ্রমী এবং জীবনে সফল ছিলেন । একজন পরিশ্রম করে হাওয়াই এর অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন । আর অপর জন শিক্ষিত অথচ অর্থের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে চলেন । দুজনেই বেশ প্রভাবশালী ছিলেন । রবার্টকে দুজনেই উপদেশ দিতেন । কিন্তু দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল দু’ রকমের । তাই দু’ধরনের বক্তব্য থেকে তিনি যে শিক্ষা পান, সেই শিক্ষা থেকেই তিনি জীবনে অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন । এই রিচ ড্যাড হলেন তার বন্ধু মাইক এর বাবা আর পুওর ড্যাড হলেন তার নিজের বাবা ।

ধনী হয়ে ওঠার পর রবার্ট বলেন , অর্থনীতি ও অর্থনৈতিকভাবে ধনী হবার জন্য যে শিক্ষা প্রয়োজন তা , সাধারণ বিদ্যালয় কিংবা বাবা-মা কেউই দেন না । ফলে এই বইটিতে তিনি সেই 6 টি শিক্ষার কথা বলেন যে শিক্ষা গুলির জন্য বইটিকে বলা হয় হয় “নাম্বার ওয়ান পার্সোনাল ফাইন্যান্স বুক অফ অল টাইম।”

বইটিতে নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়ে 6 টি অধ্যায়ে 6 টি শিক্ষার কথা বলেন লেখক । সেগুলি হল—

১. অর্থের জন্য কাজ করো না — অর্থ তোমার জন্য কাজ করবে । এই অধ্যায় লেখক শিখিয়েছেন নিজেই পরিশ্রম করে সব কাজ করতে যাবার ইঁদুর দৌড়ে নেমে নিজেই সিস্টেমের কারাগারে মানুষ বন্দি হয়ে যায় । যে কোনো কাজের ক্ষেত্রেই দুটো ভয় কাজ করে —– হেরে যাবার ভয় আর সমাজ কি বলবে — তার ভয় ।

২. অর্থনৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন : – আর্নিং এর জন্য নয় লার্নিং এর জন্য কাজ করা উচিত । বেশিরভাগ মানুষ রোজগারের জন্য পরিশ্রম করতে থাকে । কিন্তু রবার্ট বলেন কাজ করতে হয় শিক্ষা অর্জনের জন্য ।

৩. জীবনে রিস্ক নিতে হয় । রিস্ক কে ভয় পাওয়া নয় , ম্যানেজ করতে শেখা প্রয়োজন ।

৪. সম্পদ ও দায় এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে । সম্পদ তৈরি করতে হবে , দায় নয় । বাড়ি-গাড়ি এসবকে অনেকেই সম্পদ বলে ভুল করেন । সম্পদ হল যে সব অর্থের যোগান দেয় এবং ঘন ঘন হস্তান্তর যোগ্য । আর দায় হল যা টাকা খরচ করায় — অর্থের যোগান দেয় না ।

৫. প্রফেশন আর বিজনেস এর পার্থক্য আছে । প্রফেশন বা জীবিকা জীবন ধারণের জন্য , আর বিজনেস সম্পদ সৃষ্টি করার জন্য ।

৬. ধনী হবার মূল লক্ষ্য হল minimise your tax . নিজের কোম্পানিতে আয় এর পর খরচ করা হয় , আর তারপর শেষে পড়ে থাকা বাড়তি টাকার উপর ট্যাক্স দেওয়া হয় । কিন্তু জব বা ভালো চাকরির এর ক্ষেত্রে আগে ট্যাক্স দেওয়া হয় , তারপর পরে ভোগ ।

এইভাবে এই গ্রন্থে ধনী হবার মূল মন্ত্রটিকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা আছে । যার ফলে এই বইটি আজ বিশ্বের বহু মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে ও দিচ্ছে ।

তাহলে বন্ধুরা আমার জীবনের অন্যতম সেরা পাঁচটি বই এর মূল বক্তব্য ও তার থেকে আমরা কী কী শিক্ষা পেতে পারি তা জানালাম । এই বইগুলো তোমার জীবনেও আশা করি বদল আনতে সক্ষম হবে । আরো বিস্তারিত জানতে হলে বইগুলো পড়তে হবে । এর পর এরকম আরো বই এর খবর নিয়ে আসছি । আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে সঙ্গে থেকো । খুব ভালো থেকো বন্ধুরা ।

The post জীবন বদলে দেওয়ার মতো ৫-টি বই appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/life-changing-five-books-review/feed/ 0
সকালবেলার পাঁচটি অভ্যাস যা জীবন একশো শতাংশ বদলে দেবে https://preronajibon.com/five-morning-habits-that-will-change-your-life/ https://preronajibon.com/five-morning-habits-that-will-change-your-life/#respond Wed, 26 Jun 2019 14:07:07 +0000 https://preronajibon.com/?p=691 6 Minute Readগল্পটি শুরু হয়েছে একটি বড় বিজনেস সেমিনার দিয়ে । যেখানে একজন বড় বিজনেসম্যান বক্তব্যের মাধ্যমে অন্যদের উদ্দীপ্ত করছিলেন । অংশগ্রহণকারী

The post সকালবেলার পাঁচটি অভ্যাস যা জীবন একশো শতাংশ বদলে দেবে appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
6 Minute Read

গল্পটি শুরু হয়েছে একটি বড় বিজনেস সেমিনার দিয়ে ।
যেখানে একজন বড় বিজনেসম্যান বক্তব্যের মাধ্যমে অন্যদের উদ্দীপ্ত করছিলেন । অংশগ্রহণকারী শ্রোতাদের মধ্যে দু’জন ছিলেন , যাদের নিয়ে এই গল্পের কাহিনী বিধৃত হয়েছে । সেই দু’জনের মধ্যে একজন ছিলেন অবসাদগ্রস্ত বিনিয়োগকারী আরেকজন ছিলেন হতাশ শিল্পী । একজন ছিলেন হতাশাগ্রস্ত অপরজন ছিলেন সফল হবার স্বপ্নে বিভোর ; কিন্তু কেউই তাদের সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না । সেমিনারে বক্তা অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাঝে মাঝেই সেমিনারে বিরতি নিতে হচ্ছিল । এরই কোন অবসরে ওই দু’জন মানুষ নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা-পরিচয় করে নিচ্ছিলেন । এমন সময় তাদের পেছনে একজন এমন মানুষ আবির্ভূত হলেন , যার পোশাক আশাক ছিল একদম দরিদ্র মানুষের মতো । আশ্চর্যের বিষয় তার হাতে ছিল লক্ষ ডলার মূল্যের ঘড়ি ।

উদ্যমহীন ব্যবসায়ীটি ওই তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলেন যে , তিনি আসলে দরিদ্র কেউ নন — একজন বিলিওনিয়ার । এমন দরিদ্র পোশাক পরার কারণ হিসেবে তিনি জানালেন , তিনি যেন কখনোই ভুলে না যান যে তিনি কীরকম পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছেন ।

কথা প্রসঙ্গে ওই বিলিওনিয়ার জানান , তিনি এমন এক World Class Technique জানেন যা পৃথিবীর বড় বড় সফল ব্যক্তিরা সাফল্য পাবার জন্য ব্যবহার করে থাকেন ।

এবং তিনি কথা প্রসঙ্গে ওই দু’জনকে বলেন যে তিনি তাদের ওই ওয়ার্ল্ড ক্লাস টেকনিক বিনামূল্যে শেখাতে রাজি আছেন , যদি তারা দু’জন পরদিন ভোর পাঁচটায় দেখা করতে পারেন ।

পরেরদিন যথা সময়ে ঐ বিনিয়োগ ব্যবসায়ী এবং ঐ শিল্পীকে নিয়ে বিলিওনিয়ার মানুষটি তাঁর নিজস্ব প্লেনে যাত্রা শুরু করলেন । তাদের আলোচনা এখানেই শুরু হয় ।

বিলিওনিয়ার জানালেন যে ভোর পাঁচটায় ওঠার ফলেই তিনি আজকের জায়গায় আসতে পেরেছেন । আর এই ভোর পাঁচটায় ওঠার ফলেই তাঁর সৃজনশীলতা (creativity ) বেড়ে যায় , ক্ষমতা (energy) দ্বিগুন হয় আর উৎপাদনশীলতা (Productivity) তিনগুন হয়ে যায় ।


তিনি একে একে বলতে থাকেন যে , আমাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কের ক্ষমতা নির্দিষ্ট । প্রতি মুহূর্তে কাজ করার বা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আছে । আমরা প্রতিদিন আমাদের মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখি গুরুত্বহীন কাজগুলিতে , যেমন সংবাদপত্র , টিভি , সোশ্যাল মিডিয়া প্রভৃতি । যার ফলে আমাদের মস্তিষ্কের Energy কমতে থাকে । দুপুরের পর কোনো কাজে তাই আর মনোযোগ দিতে পারি না , –ক্রমশঃ অবসন্ন হয়ে পড়তে থাকি । আর তার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক বিষয়ের কাজের ভার বাড়তে থাকে , এভাবে ক্রমে জীবন অতীষ্ট হয়ে উঠতে থাকে আমাদের।

তাই ভোর পাঁচটায় ওঠার ফলে একটা সুবর্ণ সুযোগ গড়ে ওঠে । নিজের সমস্ত কাজের পরিকল্পনা করা যায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই । কারণ আমাদের prefrontal cortex যা আমাদের over thinking করায় , তা বিশ্রামে যেতে থাকে আর ভোরে ওঠার ফলে এই over thinking এর সমস্যা কমতে থাকে ।

এভাবে জেট প্লেন এ তারা বিলিওনিয়ারের বাড়ি মরিশাস এ পৌঁছান । সেখানে তিনি জীবনের সাফল্যের রহস্যটি তাদের বলতে থাকেন ।

বন্ধুরা , এভাবেই রবীন শর্মা তাঁর গল্পের মাধ্যমেই বিষয়গুলি তুলে ধরেন । চার বছর ধ’রে লেখা “The 5AM Club”-এও এই গল্পটির মাধ্যমে মূল বিষয়টি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা আমরা পাঁচটি পয়েন্টে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরছি ।

১. 20/20/20 Formula :

এই বইটিতে কাহিনীর মূল ব্যক্তি ওই বিলিওনিয়ার সাফল্যের যে প্রথম কথাটি বললেন তা হলো এই 20/20/20 Formula ।
একে বলা হয়েছে Victory Hour । সকাল ৫-টা থেকে ৬-টা পর্যন্ত সময়কে ২০মিনিটের তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে । এই তিনটি পর্যায় এবং তার কার্য কলাপ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা হল :

5am to 5:20am 1st 20 minutes — move — exercise

5:20am to 5:40am 2nd 20 minutes –reflect — meditation , deep thinking , planning etc .


5:40am to 6:00am 3rd 20 minutes — Grow

ঘুম থেকে উঠে 20 মিনিট ঘাম নিঃসরণকারী ব্যায়ামের ফলে শরীরের cortisol হরমোনের নিঃসরণ কমে যায় । এই হরমোন ভয়ের উদ্রেক করে থাকে । BDNF ( Brain Derived Neurotrophic Factor ) প্রোটিন যা মস্তিষ্কের কোষকে মেরামত করে ও স্নায়বিক সংযোগের উন্নতি ঘটায় । ব্যায়ামের ফলে সেটা বৃদ্ধি পায়।
পরের 20 মিনিট peaceful মানসিকতার তৈরির জন্য । এই সময় যে বিষয়গুলো কার্যকর সেগুলি হল ডাইরি লেখা (Journaling) , নিজের সঙ্গে কথা বলা (self affirmation) ইত্যাদি । যা যা ভাবনা আসে এই সময়েই সব লিখে ফেলতে হবে । আর তৃতীয় 20 মিনিট হবে নিজেকে উন্নত করার জন্য । এই সময় ভালো বই পড়া , অডিও বুক , পডকাস্ট ইত্যাদি শোনার মতো শিক্ষণীয় কাজগুলি করার কথা বলা হয়েছে । বইতে এভাবে দেখানো হয়েছে :

২. Freedom from Distraction :

মানুষের attention কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে attention economy । সারা বিশ্বে আজ সোশ্যাল মিডিয়া , টিভি , ইন্টারনেট , ইউটিউব জাঁকিয়ে ব্যাবসা করছে এই attention economy দ্বারাই । কিন্তু সফল ব্যক্তিরা এই ইকোনোমির ফাঁদ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখেন । ইন্টারনেট ফ্রি নয় আসলে আমরাই ফ্রি হয়ে উঠছি ওই ব্যাবসায়ীদের কাছে । আমরা কী দেখছি , কী খুঁজছি সবই attention economy তে ধরা পড়ে । আর সেই অনুসারেই আমাদের সামনে একটার পর একটা মনোলোভা বিষয় উপস্থাপিত হতে থাকে । অর্থাৎ আমাদের attention অন্যের ব্যাবসার বিষয় হয়ে উঠছে । এভাবেই আজ ক্রমে আমরাও তাদের দাস হয়ে উঠছি । আমাদের মূল্যবান সময় , মেধা , শক্তি হারিয়ে আমরা একই রকম থেকে যাচ্ছি দিনের পর দিন ।

সফল হতে এই সব Distraction থেকে মুক্ত হতে হবে । এককথায় time wasting activity থেকে মুক্ত হওয়ার কথাই বলা হয়েছে বইটিতে ।

৩. Three Step Success Formula :

এই বইতে প্রাপ্ত আরেকটি শিক্ষণীয় বিষয় হল 3 step formula । বিষয়টি নিম্নরূপ :

খুব ভালোভাবে সচেতন হলেই তার better result-ও মিলবে । সচেতনতার ফলে সবকিছু দেখার ও বিবেচনার নজর বদলে যাবে এবং খোলা মনের উদার দৃষ্টির অধিকারী হওয়া সম্ভব । আর তার ফলেই নিজের পছন্দগুলোও better হতে শুরু করবে । যার ফলশ্রুতিতে better result মিলতে বাধ্য ।

জেনে রাখুন : হতাশা দূরীকরণের ১০ টি উপায়

৪. The Four Interior Empires :

মানুষের বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে যেমন interior বা বসবাসের জন্য ভেতরের স্থানটিকে সুন্দর ও সুখকরভাবে সাজানোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয় । তেমনি আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে চারটি empires কেও সুন্দরভাবে বিনির্মাণ করা প্রয়োজন । এই চারটি interior empires হলো :-
I) Mindset
II) Heartset
III) Healthset
IV ) Soulset

মানসিকতা তৈরির সঙ্গে হৃদয়ের আবেগকেও যুক্ত করতে হয় । এই আবেগ মানুষকে ভেতর থেকে তাগিদ তৈরি করে । আর ভাবো খুব সফল হবার পর সেটা উপভোগ করার জন্যই শরীরের সক্ষমতার প্রয়োজন কতটা । আর শারীরিক সুস্থতা না থাকলে কোনোভাবেই উন্নতি করা যাবে না । তাই স্বাস্থ্যও নির্মাণ করা প্রয়োজন । আর একটি বিষয় হলো Soulset , spirituality বা আধ্যাত্মিকতা । এটা খুব প্রয়োজন হলো মানসিক প্রশান্তির জন্য । এটা না হলে জীবনের কোন উদ্যেশ্যই বোঝা সম্ভব নয় । তাই বলা হয়েছে জীবনের এই চারটি Empires কে সুন্দরভাবে build করলেই জীবনে সত্যিকারের সাফল্য আনা সম্ভব ।

এই চারটি অভ্যন্তরীণ বিষয় বইটিতে যেভাবে চিত্রিত করা হয়েছে তা দেখানো হল :

সকালবেলার পাঁচটি অভ্যাস

৫. The Habit Installation Protocol :

এই বইটিতে লেখা একটি দারুন শিক্ষণীয় বিষয় হল , যে কোনো অভ্যাস গড়ে তুলতে 66 দিন সময় লাগে । বইতে দেওয়া চিত্রটি দেখলেই বোঝা যাবে :

সকালবেলার পাঁচটি অভ্যাস

অর্থাৎ প্রথম 22 দিন পুরোনো অভ্যাস ত্যাগ করতে কাজে লাগবে । এই পর্যায়টি খুব কঠিন । নতুন অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয় এই সময় ।
কষ্ট করে প্রথম 22 দিন কাটানোর পর দ্বিতীয় 22 দিন নতুন অভ্যাস গড়ে ওঠার জন্য । আর তৃতীয় 22 দিন ভালো লাগতে শুরু করবে । এই দিনগুলোতে নতুন অভ্যাস গুলি Subconscious mind এ স্থান নিতে শুরু করবে । এর পর নতুন অভ্যাসই হয়ে যাবে স্বাভাবিক রুটিন ।

Robin Sharma Quote


এইভাবে যত কঠিনই হোক না কেন যারা নিয়মিত কাজগুলি করেন তাদের কাছে বিষয়গুলি সহজ হয়ে যায় । আর জীবনে সাফল্যের পর সাফল্য অর্জন করতে করতে সাফল্যের শিখরে অবস্থান করেন । অন্যদিকে বাকিরা তাদের ঈর্ষা করে আর নিজেদের ভাগ্যকে দোষ দিতে থাকে । সেইসঙ্গে সমালোচনা , নিন্দা – মন্দের ভীড়ে জীবন বিসর্জন দিয়ে শেষ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ।

তাহলে বন্ধুরা , আজ আমরা জানলাম Robin Sharma র লেখা The 5AM Club বইটি থেকে সাফল্যের মূল রহস্যগুলি কী , এবং কীভাবে সফল ব্যক্তিরা সফল হন এই সম্পর্কে । লেখাটি তোমাদের কেমন লেগেছে কমেন্ট করে জানাও । আমাদের ফেসবুকে সঙ্গে থাকো । আর লিখে ফেলো কোন কোন বিষয়ের উপর লেখা চাও তোমরা । খুব ভালো থেকো , সুস্থ থেকো ।

This Article Is Written By

Kishore Majumder
Editor & Writer

Kishore Majumder is the editor and writer of preronajibon. He is a teacher, poet and songwriter of bengali culture. He is also well-known as a youtuber and reciter of bengali poetry . He likes to inspire others to live a better life.

The post সকালবেলার পাঁচটি অভ্যাস যা জীবন একশো শতাংশ বদলে দেবে appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/five-morning-habits-that-will-change-your-life/feed/ 0