বাংলা হেল্থ টিপস Archives - প্রেরণাজীবন https://preronajibon.com/tag/বাংলা-হেল্থ-টিপস/ PreronaJibon Wed, 07 Jul 2021 11:59:05 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1.2 https://preronajibon.com/wp-content/uploads/2018/12/cropped-Favicn-32x32.png বাংলা হেল্থ টিপস Archives - প্রেরণাজীবন https://preronajibon.com/tag/বাংলা-হেল্থ-টিপস/ 32 32 জেনে নাও গাজর খাওয়ার কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা। Benefits of Carrot https://preronajibon.com/benefits-of-carrot/ https://preronajibon.com/benefits-of-carrot/#respond Fri, 27 Nov 2020 10:19:51 +0000 https://preronajibon.com/?p=1851 5 Minute Readগাজর খাওয়ার কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা শীতকালে বাজারে অনেক ধরণের সবজি পাওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি সবজি হল

The post জেনে নাও গাজর খাওয়ার কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা। Benefits of Carrot appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
5 Minute Read

গাজর খাওয়ার কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা

শীতকালে বাজারে অনেক ধরণের সবজি পাওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি সবজি হল গাজর।গাজরের ইংরেজি নাম ‘ক্যারট’। গ্রিক শব্দ ক্যারট-অন থেকে এই ক্যারট শব্দের উৎপত্তি। গাজর এর বৈজ্ঞানিক নাম Daucus carota। গাজর কে বলা হয় সুপার ফুড। খাদ্য উপাদান গুলোর মধ্যে এটি খুব শক্তিশালী। গাজর প্রায় সব দেশেই পাওয়া যায়। তবে এশিয়া মহাদেশে এর প্রচলন বেশি। কারন পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক গাজরই চীন দেশে উৎপাদিত হয়।

গাজর সাধারণত পাঁচটি বর্ণের হয়ে থাকে – সাদা, কমলা, বেগুনি, হলুদ ও লাল। গাজর পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। এতে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, এবং ভিটামিন-বি, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, ফোলেট, পটাসিয়াম, আয়রন, প্রচুর পরিমানে ফাইবার এবং বিটা ক্যারোটিন সহ পুষ্টিকর উপাদান যা শরীরে সঠিক পুষ্টির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। বিভিন্ন গবেষণায় জানা গিয়েছে, গাজর মানুষের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এখানেই শেষ নয়, ত্বক কে উজ্জ্বল করা থেকে শুরু করে ক্যানসার প্রতিরোধ করা — সব ক্ষেত্রেই উপকারী এটি। গাজর কাঁচা অথবা রান্না দু’ভাবেই খাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যদি গাজর থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টিটা পেতে হয় তবে কাচা গাজর খাওয়াই সর্বোত্তম। তাই গাজরের জুস বানিয়ে খেলেই পাওয়া যাবে গাজরের সর্বোচ্চ পুষ্টি উপাদান। তবে যেকোনো খাদ্য অতিমাত্রায় গ্রহণ করলে দেখা দিতে পারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তাই আজ আমরা গাজর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে যেমন আলোচনা করবো তেমনি থাকবে গাজর এর অপকারিতা নিয়ে কিছু কথা। প্রথমে জানবো গাজরের উপকারিতা সম্পর্কে।

পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ গাজর খাওয়ার কিছু উপকারিতা :-

ক্যালোরি25 Kcal
কার্বোহাইড্রেট৬ গ্রাম
ফাইবার২ গ্রাম
শর্করা৩ গ্রাম
প্রোটিন০.৫ গ্রাম
Source : WebMd

শরীরের প্রতিদিনের প্রয়োজনের ভিটামিনের অনেকটাই পাওয়া যেতে পারে গাজর থেকে :-

ভিটামিননিত্য প্রয়জনের কত %
Vitamin A73%
Vitamin K9%
Potassium & Fiber8%
Vitamin C5%
Calcium2%
Source : WebMd

১.দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে:-

নিয়মিত গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। গাজরের মধ্যে থাকা বিটা ক্যারোটিন যা লিভারে প্রবেশ করে ভিটামিন এ তে বদলে যায়। এটি পরবর্তী কালে চোখের রেটিনায় পৌঁছে দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আর আমরা জানি চোখ ভালো রাখতে ভিটামিন এ কতটা কার্যকরী। বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি চোখের অন্যান্য সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ইত্যাদির মতো সমস্যায় বাধা দেয়। তাই চোখ ভালো রাখতে নিয়মিত গাজর খেতে পারেন।

২.ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: –

ক্যান্সার প্রতিরোধে গাজরের তুলনা নেই। আমেকিরান জার্নাল অব ক্যানসার রিসার্চ এর মতে, গাজরে থাকা বেশ কিছু উপাদান ক্যান্সারের সম্ভাবনা গুলিকে দূরে রাখে। খাদ্য গ্রহণের পর হজম প্রক্রিয়া শেষে খাদ্যের যে উচ্ছিষ্টাংশগুলো আমাদের শরীরে থেকে যায় সেগুলোকে বলা হয় ফ্রি র্যাডিকেলস বা মৌল। এই ফ্রি র্যাডিকেলস শরীরের কিছু কোষ নষ্ট করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার এই ধরনের মৌলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফলে শরীরে ক্যান্সারের কোষ কম উৎপন্ন হয়। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে ৩৩ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’, ৯ শতাংশ ভিটামিন ‘সি’ এবং ৫ শতাংশ ভিটামিন ‘বি-৬’ পাওয়া যায়। এগুলো এক হয়ে ফ্রি র্যাডিকেলসের সঙ্গে লড়াই করে। তাই নিয়মিত গাজর খেলে স্তন ক্যানসার, কোলন ও ফুসফুস ক্যানসারের সম্ভাবনা রুদ্ধ হয়।

৩.ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে: –

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গাজর- এর ভূমিকা অতুলনীয়। গাজর ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ ও সজীব রাখে। কারণ এর মধ্যে রয়েছে বিভমিন ‘এ’ , ভিটামিন ‘সি’, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান যা ত্বকের সুন্দর করে এবং ত্বকে সূর্যের তাপের কারণে যে সানবার্ন বা ট্যান পরে তা থেকে মুক্ত করতে পারে। এছাড়াও ত্বকের টান টান অবস্থা ধরে রেখে বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।

৪. হার্ট সুস্থ রাখে :-

মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে হার্ট বা হৃদপিণ্ড একটি জরুরী অঙ্গ। আর এই হার্ট সুস্থ রাখতে গাজর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন এবং লুটিন জিজানথেন যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।এই উপাদানগুলো রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য ধমনীর ওপর কোনো আস্তরণ জমতে বাধা দেয় এবং হার্টকে সুস্থ ও সতেজ রাখে। তাই হার্ট সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় গাজর রাখতে ভুলবেন না।

৫. হাই ব্লাড প্রেসার কমায়: –

হাই ব্লাড প্রেসার কমাতে গাজর এর জুড়ি মেলা ভার। গাজরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যা হাই ব্লাড প্রেসার কমাতে সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত এবং পরিমাণ মত গাজর খেতে পারেন।

৬. হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে :-

গাজরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা মানব শরীরের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যারা খাবারে প্রতিদিন বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান তাদের হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কমে যায়। এর ক্যারোটিনয়েডগুলো হৃৎপিণ্ডের নানা অসুখের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। তাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকে খাদ্যতালিকায় গাজর যোগ করুন।

৭. হাড় মুজবুত রাখে :-

যারা অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ সবজি গ্রহণ করা বিশেষ জরুরি। আর গাজরে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামসহ নানা খনিজ উপাদান। যা হাড়কে সুস্থ ও মুজবুত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৮. লিভার ভালো রাখে :-

শরীরে লিভার অনেক ধরণের হরমোন নির্গত করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাজরে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যেসব ফাইবার পেটকে পরিষ্কার রাখে । পেটে শক্ত কঠিন মল জমতে দেয় না । মলত্যাগের বেগ সৃষ্টি করে লিভার ও কোলনকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। যদি প্রতিদিন একটি করে গাজর খাওয়া যায় তাহলে লিভারে বিভিন্ন সমস্যা , ও নানারকম সংক্রমণের হাত থেকে যেমন- হেপাটাইটিস, সিরোসিস ,কোলেস্টেসিস ইত্যাদি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। লিভারে জমা পিত্ত এবং শক্ত কঠিন ফ্যাটকে কমাতেও সাহায্য করে গাজর। যারা দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান , তারা গাজরকে আজই খাদ্য তালিকায় আমন্ত্রণ জানান।

৯. দাঁত ভালো রাখে :-

সুস্থ ও পরিষ্কার দাঁত পেতে হলে নিয়মিত গাজর খান। গাজরের মধ্যে থাকা মিনারেলগুলো দাঁতকে সুস্থ ,সুন্দর ,পরিষ্কার ও মুজবুত রাখতে সাহায্য করে।এছাড়া গাজর খাওয়ার সময় আমাদের মুখে ‘সিলভা’ নামক একটি যৌগের নিঃসরণ ঘটে। এই যৌগটি দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলো ধ্বংস করে মুখের ভেতর অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে।

১০. ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে :-

সহজলভ্য সবজি গাজরে একদিকে ক্যালোরি যেমন কম থাকে , তেমনি সুগারের উপাদানও তুলনায় খুব কমই থাকে। আর ডায়াবেটিস রোগীর প্রধান সমস্যা হল সুগার , ফ্যাট আর কোলেস্টরেল । সেক্ষেত্রে গাজরে সুগার কম থাকায় অন্য সবজির থেকে বেশি উপকার করে। গাজরে থাকে বেশি পরিমাণ পটাশিয়াম এবং এমন কিছু খনিজ যা কোলেস্টেরল এবং ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গাজরের পুষ্টিমূল্য অপরিসীম।

১১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে :-

গাজরের মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন C যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী। গাজরের মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান শরীরের ক্ষতিকর জীবাণু, ভাইরাস এবং বিভিন্ন ধরনের প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের জুস খেতে পারেন।

১২. গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে উপকারী :-

গাজরে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম যা গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের হাড়ের বিকাশে সাহায্য করে। এই অবস্থায় মায়ের শরীরের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। কারণ একই শরীরে দুজনের বিকাশ ঘটে । তাই গাজরে থাকা সমস্ত কার্যকর ভিটামিন ও উপাদানগুলো সন্তানের সঙ্গে মায়েরও খেয়াল রাখতে সাহায্য করে । গর্ভাবস্থায় মায়ের রক্তাল্পতা , পেশির খিঁচুনি ধরা, ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যার আশু সমাধান দিতে পারে গাজর ।

গাজরের অপকারিতা :-

যে কোনো জিনিস খুব কার্যকর হলেও তার সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ না হলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য । তাই সঠিক সময় সঠিক পরিমানে গাজর খেতে হবে । মাত্রাতিরিক্ত গাজর খেলে কিছু অপকার হতে পারে । সেগুলি অবশ্যই মনে রাখা দরকার।

১. প্রচন্ড গরমে বেশি পরিমাণে গাজর খেলে অনিদ্রার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা যাদের তাদের মাত্রাতিরিক্ত গাজর রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

২. অতিরিক্ত গাজর খেলে অল্প বয়সী শিশু যাদের নরম দাঁত বা দুধ দাঁত তাদের দাতের ক্ষয় দ্রুত ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

৩. গাজর কিংবা যে কোনো সবজি বা ফল বেশি পরিমানে খেলে বদ হজম , গ্যাস, অম্বল কিংবা ডাইরিয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪. অতিরিক্ত গাজর খাবার ফলে মানুষের অন্ত্রে অতিরিক্ত বিটা ক্যারোটিন জমে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত বিটা ক্যারোটিন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

৫. অন্যান্য খাবারের পরিমানের সঙ্গে সাযুজ্য না রেখে গাজর খেলে শরীরের বিভিন্ন অংশ , বিশেষ করে হাত , পা, গালের চামড়ার রঙ জন্ডিস আক্রান্ত রোগীর মত হলুদ হয়ে যেতে পারে।

৬. অনেকের অ্যালার্জি থাকে গাজরে । তাই তাদের জন্য খুব সতর্ক হয়ে খাদ্য তালিকায় গাজরের ব্যাবহার করতে হবে ।

সবচেয়ে উপকারী জিনিসও অতিরিক্ত ও ভুলভাবে প্রয়োগে ক্ষতি করতে পারে। তাই গাজর এর উপকারিতার কথা মাথায় রেখেই নিওমিত গাজর খাবেন যেমন , তেমনি ভালভাবে জেনে নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতেও ভুলবেন না । আশা করি আজকের আর্টিকেলটি খুব কাজে লাগবে সকলের । এরকম আরও লেখা পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক করে সঙ্গে থাকুন। আর কোন কোন বিষয়ে লেখা পড়তে চান , কমেন্ট করে জানান। আর হ্যাঁ , যদি লেখাটি একটুও ভালো লেগে থাকে তাহলে বন্ধুদের শেয়ার করতে ভুলবেন না । ভালো থাকুন , সুস্থ থাকুন । প্রেরণাজীবন আপনার সঙ্গে আছে ও থাকবে।

The post জেনে নাও গাজর খাওয়ার কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা। Benefits of Carrot appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/benefits-of-carrot/feed/ 0
মানসিক স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং তা ভালো রাখার কয়টি উপায় https://preronajibon.com/ways-to-improve-mental-health/ https://preronajibon.com/ways-to-improve-mental-health/#respond Sun, 23 Feb 2020 13:52:49 +0000 https://preronajibon.com/?p=1182 4 Minute Readমানসিক স্বাস্থ্য কি ? :- মানসিক স্বাস্থ্য কী তা বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে স্বাস্থ্য কী ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

The post মানসিক স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং তা ভালো রাখার কয়টি উপায় appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
4 Minute Read

মানসিক স্বাস্থ্য কি ? :-

মানসিক স্বাস্থ্য কী তা বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে স্বাস্থ্য কী ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO এর মতে স্বাস্থ্য হল ব্যক্তির শারীরিক , মানসিক এবং সামাজিক এই তিন অবস্থার একটি সুস্থ সমন্বয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি ,একজন মানুষের স্বাস্থ্য হল রোগবালাই মুক্ত সুস্থ শরীর ও সেই সঙ্গে ভয় ,হতাশা ,বিষন্নতা ,মানসিক চাপ থেকে মুক্ত মন এবং সমাজের নানাবিধ চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করতে সক্ষম মন। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে , স্বাস্থ্যের অন্যতম উপাদান হল মনের সুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্য। মানুষের চিন্তা ,আবেগ ও আচরণ এই তিন মিলেই হল মানসিক স্বাস্থ্য। এককথায় মানসিক স্বাস্থ্য বলতে বোঝায়

“ Full and harmonious functioning of whole personality “.

আমাদের প্রত্যেককেই কোনো না কোনো সময়ে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয় তা সে কর্মজীবনে হোক বা ব্যক্তিগত জীবনে। অনেক সময় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হতে গিয়ে আমাদের মানসিক অবসাদ , বিষন্নতার শিকার হতে হয়। আমরা যখন দেখি আমাদের স্বাভাবিক কাজগুলি ব্যাহত হচ্ছে তখনি মানসিক অসুস্থতার প্রশ্নটি সামনে আসে। দেখা যায় যে ,আমরা শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা সচেতন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ততটা সচেতনতা দেখাই না। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে তা শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ভীষণ ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ শারীরিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।

WHO এর তথ্য থেকে জানা যায় যে প্রায় ৭.৫% ভারতীয় কোনো না কোনো প্রকার মানসিক সমস্যার শিকার। এদেশে আক্রান্তের পরিমান বিশ্বের মোট আক্রান্তের প্রায় ১৫%, আরও চিন্তার বিষয় হলো WHO এর মতে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলিতে আরও বেশি মানুষ এই মানসিক অবসাদের শিকার হবে। কিন্তু বর্তমানের এই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থায় কি এর সুরাহা সম্ভব নয় ? যদিও এই সমস্যার সমাধানে চিকিৎসকরা সাহায্য করতেই পারেন, কিন্তু আমাদের দেশে এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য রয়েছে মাত্র ৪০০০ থেকে ৪৫০০ সাইক্রাটিস্ট।

মানসিক সমস্যার রূপ গুলি নানা প্রকার। যেমন – অবসাদ , মানসিক উদ্বিগ্নতা ,এছাড়াও রয়েছে স্কিৎজোফ্রেনিয়া এবং বাইপোলার সমস্যা।

মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব :-

সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য শরীরকে সুস্থ রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হল মনকে সুস্থ রাখা। ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে সে –

ক) দৈনন্দিন কাজকর্ম সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
খ ) বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।
গ ) পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে চলতে পারে। স্বাভাবিক ও সুষ্ঠ অভিযোজনে সক্ষম হয়।
ঘ ) বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ঙ ) আরও উৎপাদনশীল হয়ে ওঠে এবং নিজের ও সমাজের উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।

-: মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় :-

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আমরা যা যা করতে পারি –

১ ) নিজের যত্ন নাও :-

মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ পেতে নিজের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা রাখো , নিজের মনের কথা শোনো ,বই পড়ো গান শোনো। অতীত ও ভবিষ্যৎ ভুলে বর্তমানে থাকার চেষ্টা করো।

২ ) পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ :-

বিভিন্ন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এটাই দেখেছেন যে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার কেবল আমাদের শরীরকেই নয় , মনকেও ভালো রাখে। অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটি খাবার আমাদের বিষন্নতার জন্য মারাত্মক দায়ী। ভিটামিন বি -১২, ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আমাদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তাজা ফলমূল ও সবজি একটা বড় ভূমিকা রাখে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে।পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ফলে শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যই সুস্থ থাকে।

৩) পর্যাপ্ত ঘুম :-

শরীর সুস্থ রাখতে যেমন পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই তেমনই মনকে সুস্থ রাখতেও ঘুমের কোন বিকল্প নেই। কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আমাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে ফলে আমরা ক্লান্তিবোধ করি , কমে যায় কর্মস্পৃহাও। ঘুমের সময় আমাদের শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলি সারিয়ে তোলে আমাদের মন ও মেজাজকে চাঙ্গা রাখে। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি।

জেনে নিন : ঠিকমতো ঘুম না হলে যে ৮ টি মারত্মক সমস্যা হতে পারে

৪) নিয়মিত ব্যায়াম :-

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শারীরিক ব্যায়াম খুবই জরুরি। স্ট্রেস ও বিষন্নতা কাটাতে ব্যায়াম ভীষণ কাজে আসে। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে , ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। তাই মনকে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যেস গড়ে তোলো।

৫) শখের কাজ করো :-

নিজের শখের কাজগুলি করতে পারলে মন ভালো থাকে, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। দুশ্চিন্তা মাথায় আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। যেমন – বাগান করা , রান্না কিংবা সেলাই করা, নতুন কোনো কিছু শেখা ইত্যাদি। ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

জেনে নিন : টেনশন থেকে মুক্তির ৫ টি উপায়

৬) নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো:-

নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়। আমরা কেউই নিখুঁত নই। অন্যের সাথে নিজের তুলনা করে নিজের দুর্বলতাগুলো নিয়ে চিন্তা করা বোকামির কাজ। এতে করে হীনমন্যতা ,হতাশা ,বিষন্নতা বৃদ্ধি পায়। তার থেকে নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে কিংবা তা দূর করার প্রয়াস করলে নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়বে।

৭) কৃতজ্ঞ থাকা :-

সারাদিন কি কি পেয়েছো তার একটা লিস্ট বানাও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো। যা পাও নি তা নিয়ে কষ্ট পেও না, যতটুকু পেয়েছো তাতে খুশি থাকার চেষ্টা করো এতে করে মনের ভেতর ইতিবাচকতা জন্ম নেবে।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়

৮) প্রিয়জনদের সঙ্গে বেশি করে সময় কাটাও :-

প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটালে মন সুস্থ থাকে। নিজেকে ঘরবন্দি রাখলে হতাশা ও দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকবে ফলে মানসিক সমস্যার দেখা দিতে পারে। বন্ধুবান্ধব ,পরিবারের সাথে মন খুলে মেশো। একটু হাসি একটু আলিঙ্গন মনকে সুস্থ করে তুলতে দারুন উপযোগী।

৯) সক্রিয় থাকো :-

অলস হয়ে বসে থাকলে নানা দুশ্চিন্তা মাথায় ভিড় জমাতে থাকে। তাই সবসময় কাজের মধ্যে থাকো তাহলে মন এমনিতেই ভালো থাকবে।

১০) ক্ষমা করো : –

দীর্ঘদিন ধরে কারো প্রতি ক্ষোভ জমতে থাকলে মানসিক অসুস্থতার সূত্রপাত হতে পারে। তাই ক্ষমা করে দাও ক্ষমাই পারে মানসিক প্রশান্তি দান করতে। ক্ষমা করো সুস্থ থাকো।

এতক্ষন ধরে যে উপায়গুলো বলা হলো সেগুলো আমাদের হাতে রয়েছে যা অবলম্বন করে আমরা মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারি। । কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সমস্যা নিরাময় এর জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শারীরিক ক্ষতি ভালো হলেও মানসিক ক্ষতি সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। আমাদের চারপাশে রোজ কিছু নৃশংস ঘটনা ঘটছে , যারা ভুক্তভোগী তাদের মধ্যে সাংঘাতিক মানসিক চাপ ,ভয় ,বিষন্নতা,হতাশাসহ নানা ধরণের মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের উচিত তাদের পাশে থাকা ,তাদের হেয় চোখে না দেখে কিভাবে তারা পুরোপুরি সুস্থ জীবন পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

আশাকরি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় গুলি তোমাদের কাজে লাগবে আর এই ধরনের লেখার আপডেট পেতে নিচের বেল আইকনে ক্লিক করে আমাদের ওয়েবসাইটের সমস্ত নোটিফিকেশন নিজের মোবাইলে পেয়ে যাও। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করো।

This Article is Written By – Ferdousi Manjira (Founder of Preronajibon.com)

The post মানসিক স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং তা ভালো রাখার কয়টি উপায় appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/ways-to-improve-mental-health/feed/ 0