মানসিক স্বাস্থ্য Archives - প্রেরণাজীবন https://preronajibon.com/tag/মানসিক-স্বাস্থ্য/ PreronaJibon Wed, 02 Sep 2026 17:05:51 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1.2 https://preronajibon.com/wp-content/uploads/2018/12/cropped-Favicn-32x32.png মানসিক স্বাস্থ্য Archives - প্রেরণাজীবন https://preronajibon.com/tag/মানসিক-স্বাস্থ্য/ 32 32 অতিরিক্ত “Sorry” বলা: ভদ্রতা, নাকি নিজের মূল্য কমিয়ে দেওয়ার অভ্যাস ? https://preronajibon.com/are-you-apologizing-for-no-reason/ https://preronajibon.com/are-you-apologizing-for-no-reason/#respond Wed, 02 Sep 2026 17:05:46 +0000 https://preronajibon.com/?p=3196 6 Minute Read“Sorry, একটা কথা বলব?” “Sorry, তোমাকে একটু বিরক্ত করছি।” “Sorry, এত বড় মেসেজ দিলাম।” “Sorry, আমি হয়তো ভুল হতে পারি,

The post অতিরিক্ত “Sorry” বলা: ভদ্রতা, নাকি নিজের মূল্য কমিয়ে দেওয়ার অভ্যাস ? appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
6 Minute Read

“Sorry, একটা কথা বলব?”

“Sorry, তোমাকে একটু বিরক্ত করছি।”

“Sorry, এত বড় মেসেজ দিলাম।”

“Sorry, আমি হয়তো ভুল হতে পারি, কিন্তু…”

ছোট্ট একটি শব্দ—Sorry। আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় শব্দটি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, অনেক সময় আমরা খেয়ালও করি না কখন এবং কেন এটি বলছি।

কিন্তু একটু ভেবে দেখুন—সবকিছুর জন্য কি সত্যিই আমাদের ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে?

কাউকে প্রশ্ন করা, নিজের মতামত প্রকাশ করা, সাহায্য চাওয়া, নিজের জন্য কিছুটা সময় নেওয়া কিংবা কোনো আলোচনায় নিজের বক্তব্য যোগ করা—এসব কি সত্যিই অপরাধ?

সমস্যা “Sorry” শব্দটির মধ্যে নয়। ভুল করলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে জানা একটি সুন্দর মানবিক গুণ। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন কোনো ভুল না করেও আমরা এমনভাবে “Sorry” বলতে থাকি, যেন আমাদের কথা, প্রয়োজন কিংবা উপস্থিতিই অন্যের জন্য একটি অসুবিধা।

অতিরিক্ত ক্ষমা চাওয়ার অভ্যাসের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

কেউ হয়তো ছোটবেলা থেকে শিখেছেন—ভালো মানুষ মানেই সব সময় নম্র, বাধ্য এবং অন্যের সুবিধাকে নিজের প্রয়োজনের আগে রাখা। কেউ অন্যকে অসন্তুষ্ট করতে ভয় পান। আবার কারও মনে প্রশ্ন আসে—

“আমার কথায় যদি উনি বিরক্ত হন?”

“আমি কি বেশি কিছু চেয়ে ফেলছি ? ”

“নিজের মতামত দিলে মানুষ আমাকে অহংকারী ভাববে না তো?”

কখনো কখনো “Sorry” একটি verbal reflex বা কথার স্বয়ংক্রিয় অভ্যাসে পরিণত হয়। চিন্তা করার আগেই শব্দটি মুখ থেকে বেরিয়ে আসে।

কেউ আমাদের সঙ্গে ধাক্কা খেলেও আমরা বলি, “Sorry!”

একটি প্রশ্ন করতে গিয়ে বলি, “Sorry to bother you.”

নিজের মতামত প্রকাশের আগেও বলি, “Sorry, but I think…”

এভাবে চলতে চলতে আমাদের কথার মধ্যে অজান্তেই এমন একটি বার্তা ঢুকে যেতে পারে—যেন নিজের বক্তব্য প্রকাশ করার আগে আমাদের অনুমতি নিতে হবে।

গবেষণা কী বলছে ?

মনোবিজ্ঞানী Karina Schumann ও Michael Ross ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় নারী ও পুরুষের ক্ষমা চাওয়ার আচরণ পরীক্ষা করেন।

গবেষণাটির প্রথম অংশে ৩৩ জন নারী ও ৩৩ জন পুরুষ অংশগ্রহণকারীকে টানা ১২ দিন দৈনন্দিন ঘটনার ডায়েরি রাখতে বলা হয়। সেখানে তাঁরা লিখতেন—কখন তাঁরা কাউকে কষ্ট দিয়েছেন বা অসুবিধায় ফেলেছেন, কখন অন্য কেউ তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছে এবং সেই ঘটনায় ক্ষমা চাওয়া হয়েছিল কি না।

গবেষণায় নারীরা মোট apology বেশি রিপোর্ট করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা ক্ষমা চাওয়ার মতো ঘটনাও বেশি শনাক্ত করেছিলেন। কোনো ঘটনাকে যখন সত্যিই ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তখন সেই ভুলের জন্য নারী ও পুরুষের ক্ষমা চাওয়ার অনুপাতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

গবেষণার দ্বিতীয় অংশে অংশগ্রহণকারীদের কিছু কাল্পনিক এবং নিজেদের জীবনের কিছু বাস্তব ঘটনা মূল্যায়ন করতে বলা হয়। সেখানে একই ধরনের ঘটনাকে নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় কিছুটা বেশি গুরুতর ও ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করেছিলেন।

গবেষকেরা তাই বলেননি যে নারীরা স্বভাবগতভাবে দুর্বল কিংবা পুরুষেরা অহংকারের কারণে ক্ষমা চান না। তাঁদের ফলাফল বরং ইঙ্গিত করে—কোন আচরণকে কতটা গুরুতর ভুল বা offense হিসেবে দেখা হচ্ছে, সেই মানদণ্ডে পার্থক্য থাকতে পারে।

এই গবেষণা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায় —

আমি কি সত্যিই বেশি ভুল করছি, নাকি অনেক বেশি পরিস্থিতিকে নিজের ভুল বলে ধরে নিচ্ছি?

তবে মনে রাখা দরকার, গবেষণাটি সীমিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত হয়েছিল। তাই এর ফলাফল দিয়ে পৃথিবীর সব নারী বা পুরুষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।

না। এখানেই বিষয়টি আরও সূক্ষ্ম।

Alison Wood Brooks, Hengchen Dai ও Maurice E. Schweitzer-এর ২০১৪ সালের চারটি গবেষণায় দেখা যায়, নিজের কোনো দায় না থাকা সত্ত্বেও অন্যের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা কখনো কখনো সহানুভূতির সংকেত হতে পারে এবং বক্তার প্রতি বিশ্বাস বাড়াতে পারে।

যেমন, বৃষ্টিতে কেউ ভিজে গেলে বলা—

“I’m sorry you got caught in the rain.”

এখানে বক্তা বৃষ্টির জন্য দায়ী নন। এই “Sorry” অপরাধ স্বীকার নয়; এটি অন্যের কষ্ট বুঝতে পারার ভাষা।

গবেষকেরা একে বলেছেন superfluous apology—এমন একটি দুঃখপ্রকাশ, যেখানে বক্তা ঘটনার জন্য দায়ী নন।

অতএব, প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় “Sorry” খারাপ—এমন সিদ্ধান্ত গবেষণা সমর্থন করে না। বরং দুটি বিষয়ের পার্থক্য বোঝা জরুরি—

“আপনার কষ্টের কথা শুনে খুব খারাপ লাগছে।”

“Sorry, আমারও একটা মতামত আছে।”

প্রথমটি অন্যের অনুভূতিকে সম্মান করে। দ্বিতীয়টি অকারণে নিজের বক্তব্যকে সংকুচিত করতে পারে।

লক্ষ্য “Sorry” শব্দটি বাদ দেওয়া নয়। লক্ষ্য হলো বোঝা—আমি সহানুভূতি প্রকাশ করছি, নাকি নিজের স্বাভাবিক অধিকারটির জন্য ক্ষমা চাইছি?

“Sorry” নয়, কখনো “Thank You” বলুন

অভ্যাসগত apology কমানোর একটি সহজ ও সুন্দর উপায় হলো, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে “Sorry”-এর পরিবর্তে “Thank you” ব্যবহার করা।

❌ “Sorry, I’m late.”

✅ “Thank you for waiting.”

তবে দেরির কারণে অন্যের বাস্তব অসুবিধা হয়ে থাকলে বলতে পারেন—

✅ “দেরি হওয়ার জন্য আমি দুঃখিত। অপেক্ষা করার জন্য ধন্যবাদ।”

কেউ আপনার দীর্ঘ মেসেজ পড়েছেন—

❌ “Sorry for the long message.”

✅ “সময় নিয়ে মেসেজটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।”

❌ “Sorry, এতক্ষণ ধরে বলে গেলাম।”

✅ “আমার কথা মন দিয়ে শোনার জন্য ধন্যবাদ।”

এই পরিবর্তনটি ছোট হলেও কথার মানসিক কাঠামো বদলে দেয়।

“Sorry” কথোপকথনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে আপনার অপরাধবোধকে। “Thank you” গুরুত্ব দেয় অন্য ব্যক্তির সময়, ধৈর্য ও সহযোগিতাকে।

তবে যেখানে সত্যিই আপনার ভুল হয়েছে, সেখানে শুধু “Thank you” বলে দায় এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে ক্ষমা ও কৃতজ্ঞতা—দুটিই প্রকাশ করুন।

কথার শুরু থেকে অপ্রয়োজনীয় “Sorry” সরিয়ে দিন

অনেক সময় মূল কথায় যাওয়ার আগেই আমরা নিজের বক্তব্যকে ছোট করে ফেলি।

❌ “Sorry, can I add something?”

✅ “আমি একটি বিষয় যোগ করতে চাই।”

❌ “Sorry, quick question.”

✅ “একটি ছোট প্রশ্ন আছে।”

❌ “Sorry, আমি একমত হতে পারছি না।”

✅ “আমি বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে দেখছি।”

এখানে লক্ষ্য অভদ্র হওয়া নয়। লক্ষ্য হলো—

Apologetic না হয়েও polite হতে শেখা।

আপনার কণ্ঠস্বর কোমল হতে পারে, ভাষা সম্মানজনক হতে পারে এবং আচরণ বিবেচনাপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি বক্তব্যের আগে নিজেকে ছোট করার প্রয়োজন নেই।

Assertive হওয়া মানে aggressive হওয়া নয়

অনেকে ভাবেন —

“আমি যদি Sorry কম বলি, মানুষ আমাকে অহংকারী ভাববে।”

অথবা—

“নিজের কথা সরাসরি বললে আমি rude হয়ে যাব।”

কিন্তু assertiveness এবং aggression এক বিষয় নয়।

Aggression হলো অন্যের অধিকার বা অনুভূতিকে অগ্রাহ্য করে নিজের কথা চাপিয়ে দেওয়া।

Assertiveness হলো নিজের প্রয়োজন, মতামত ও সীমারেখা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা—একই সঙ্গে অন্যের প্রতিও সম্মান বজায় রাখা।

“আমি এই বিষয়ে একমত নই।”

“এখন আমার পক্ষে কাজটি করা সম্ভব নয়।”

“সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার একটু সময় দরকার।”

“আমার কথাটাও সম্পূর্ণ করতে চাই।”

এসব বলার আগে “Sorry” যোগ করা বাধ্যতামূলক নয়।

নিজের মতামতের মূল্য দেওয়া অহংকার নয়। আবার নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে অন্যকে অসম্মান করাও আত্মবিশ্বাস নয়। প্রকৃত আত্মবিশ্বাসের মধ্যে স্পষ্টতা ও সম্মান—দুটিই থাকে।

সত্যিকারের ভুল হলে “Sorry” অবশ্যই বলুন

Over-apologizing কমানোর অর্থ ক্ষমা চাওয়া বন্ধ করে দেওয়া নয়।

আপনি যদি কারও অনুভূতিতে সত্যিই আঘাত করেন, কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন, নিজের অবহেলায় কারও সময় নষ্ট করেন কিংবা নিজের আচরণের কারণে কাউকে ক্ষতির মুখে ফেলেন—তাহলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Roy J. Lewicki, Beth Polin ও Robert B. Lount-এর ২০১৬ সালের দুটি গবেষণায় কার্যকর apology-এর ছয়টি সম্ভাব্য উপাদান পরীক্ষা করা হয়েছিল—

অনুশোচনা প্রকাশ

কী ভুল হয়েছে তার ব্যাখ্যা

নিজের দায় স্বীকার

ভুলটি আর না করার ইচ্ছা প্রকাশ

ক্ষতি সংশোধনের প্রস্তাব

ক্ষমা প্রার্থনা

গবেষণায় বেশি উপাদান থাকা apology সাধারণত বেশি কার্যকর বলে মূল্যায়িত হয়েছে। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিজের দায় স্বীকার করা এবং ক্ষতি সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া।

শুধু —

“Sorry.”

বললেই একটি ভালো apology সম্পূর্ণ হয় না।

বরং বলা যেতে পারে—

“আমি দুঃখিত। ভুলটি আমার ছিল। এর কারণে আপনার সময় নষ্ট হয়েছে, সেটা আমি বুঝতে পারছি। আমি আজই বিষয়টি ঠিক করার ব্যবস্থা করছি।”

এখানে রয়েছে —

ভুল স্বীকার → দায়িত্ব গ্রহণ → ক্ষতি বোঝা → সংশোধনের উদ্যোগ।

নিজের ভুলের সামনে সৎভাবে দাঁড়াতে পারা দুর্বলতা নয়। এটি মানসিক পরিণতিবোধ ও আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ।

একটি সহজ অভ্যাস: STOP–CHECK–SPEAK

মুখ থেকে অভ্যাসবশত “Sorry” বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে?

এক সেকেন্ড থামুন।

“আমি কি সত্যিই কোনো ভুল করেছি?”

“আমার কারণে কি কেউ কষ্ট বা অসুবিধায় পড়েছেন?”

“নাকি আমি শুধু প্রশ্ন, মতামত বা নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করার জন্য ক্ষমা চাইছি?”

উত্তর যদি হয়—হ্যাঁ, আমি ভুল করেছি, তাহলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান এবং সম্ভব হলে ভুলটি সংশোধন করুন।

উত্তর যদি না হয়, তাহলে “Sorry” বাদ দিয়ে কথাটি সম্মানজনকভাবে বলুন।

❌ “Sorry, একটা প্রশ্ন করব?”

✅ “একটি প্রশ্ন করতে চাই।”

❌ “Sorry, আপনার একটু সময় নেব।”

✅ “আপনার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই।”

❌ “Sorry, আমি হয়তো ভুল, কিন্তু…”

✅ “আমার পর্যবেক্ষণটি একটু ভিন্ন।”

অর্থাৎ—

প্রয়োজনীয় apology রাখুন, reflex apology কমান।

নিজেকে ছোট না করেও ভদ্র থাকা যায়

অন্যের প্রতি বিবেচনাশীল হওয়া নিঃসন্দেহে সুন্দর গুণ। কিন্তু নিজের অস্তিত্ব, মতামত, সময় ও প্রয়োজনকে সব সময় অন্যের নিচে রাখার নাম kindness নয়।

নিজের জন্য কিছুটা জায়গা চাওয়া selfishness নয়।

প্রশ্ন করা বোকামি নয়।

মতামত দেওয়া অপরাধ নয়।

সম্মানের সঙ্গে “না” বলা অভদ্রতা নয়।

সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়।

এবং নিজের স্বাভাবিক জায়গাটুকু নেওয়ার জন্য বারবার ক্ষমা চাওয়ারও প্রয়োজন নেই।

শেষ কথা: “Sorry” শব্দটিকে আবার অর্থপূর্ণ করে তুলুন

লক্ষ্য শুধু কম “Sorry” বলা নয়; লক্ষ্য হলো সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে “Sorry” বলা।

প্রতিটি প্রশ্নের আগে নয়।

প্রতিটি মতামতের আগে নয়।

নিজের উপস্থিতির জন্য নয়।

নিজের প্রয়োজনের জন্য নয়।

বরং যখন সত্যিই কাউকে কষ্ট দিয়েছি বা কোনো ভুল করেছি, তখন আমাদের apology যেন হয় সৎ, নির্দিষ্ট এবং দায়িত্বশীল।

আর যখন কোনো ভুল করিনি, তখন মাথা নিচু করে নয়—শান্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের কথাটি বলি।

ভদ্র হতে হলে নিজেকে ছোট করতে হয় না।

আত্মবিশ্বাসী হতে হলে অন্যকে ছোট করতে হয় না।

আর নিজের জায়গা নেওয়ার জন্য ক্ষমা চাইতে হয় না।

আপনার উপস্থিতির মূল্য আছে।
আপনার কথার মূল্য আছে।
আপনার সময়ের মূল্য আছে।

তাই পরেরবার অভ্যাসবশত মুখে “Sorry…” চলে এলে এক মুহূর্ত থেমে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন —

“আমি কি সত্যিই কোনো ভুল করেছি, নাকি শুধু নিজের জায়গা নেওয়ার জন্য ক্ষমা চাইছি ?”

হয়তো সেই এক মুহূর্তের বিরতিই ধীরে ধীরে আপনার কথা বলার ধরন, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে শুরু করবে।

— একটি ছোট শব্দ সচেতনভাবে ব্যবহার করে নিজের মূল্যকে নতুনভাবে দেখার গল্প।


Schumann, K., & Ross, M. (2010). Why Women Apologize More Than Men: Gender Differences in Thresholds for Perceiving Offensive Behavior. Psychological Science, 21(11), 1649–1655. DOI: 10.1177/0956797610384150

Brooks, A. W., Dai, H., & Schweitzer, M. E. (2014). I’m Sorry About the Rain! Superfluous Apologies Demonstrate Empathic Concern and Increase Trust. Social Psychological and Personality Science, 5(4), 467–474. DOI: 10.1177/1948550613506122

Lewicki, R. J., Polin, B., & Lount, R. B. (2016). An Exploration of the Structure of Effective Apologies. Negotiation and Conflict Management Research, 9(2), 177–196. DOI: 10.34891/9awp-8644

The post অতিরিক্ত “Sorry” বলা: ভদ্রতা, নাকি নিজের মূল্য কমিয়ে দেওয়ার অভ্যাস ? appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/are-you-apologizing-for-no-reason/feed/ 0
ইম্পোস্টার সিনড্রোম কী ? আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন না তো ? https://preronajibon.com/imposter-syndrome-solutions/ https://preronajibon.com/imposter-syndrome-solutions/#respond Mon, 12 Oct 2020 18:12:58 +0000 https://preronajibon.com/?p=1744 4 Minute Readইম্পোস্টার সিনড্রোম কী ? আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন না তো ? আপনি কি আপনার পাওয়া সব অর্জনগুলোকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন

The post ইম্পোস্টার সিনড্রোম কী ? আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন না তো ? appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
4 Minute Read

ইম্পোস্টার সিনড্রোম কী ? আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন না তো ?

আপনি কি আপনার পাওয়া সব অর্জনগুলোকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন এবং নিজেকে ঐ সব অর্জনের জন্য অযোগ্য বলে মনে করছেন ? আপনার অর্জনের পেছনে আপনার পরিশ্রম , আপনার মেধাকে বড় করে না দেখে আপনি কি সর্বদা ভাগ্যেরই জয়গান গাইতে থাকেন, আর এই কারণেই নিজেকে একজন প্রতারক বা ছলনাকারী বলে মনে হয় আপনার ? আপনার কি সর্বদা মনে হয় কেউ আপনার মুখোশ টা খুলে দেবে , আপনার আসল পরিচয় টা সকলের সামনে বের করে আনবে ? যদি সর্বদা এই অনুভূতিগুলি আপনাকে ঘিরে রাখে, তাহলে আশঙ্কা রয়েছে আপনি ইম্পোস্টার সিনড্রোম এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।

ইম্পোস্টার সিনড্রোম কী ?

ইম্পোস্টার (Imposter) মানে হল ছদ্মবেশী, ভন্ড ও প্রতারক। আর সিনড্রোম (Syndrome) মানে হল লক্ষণ। অর্থাৎ ইম্পোস্টার সিনড্রোম হল এমন এক ধরণের মানসিক অবস্থা যেখানে মানুষ তার নিজের অর্জন , সাফল্য, যোগ্যতা ও খ্যাতিকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং নিজেকে অযোগ্য বলে মনে করে। এবং তার মনে হতে থাকে নিছকই ভাগ্যগুনে সে এখানে অবস্থান করছে। এবং সে যে যোগ্য নয় এই বিষয়টি সকলের সামনে ক্রমশ প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে বা যাবে। এই মানসিক অবস্থার নাম ইম্পোস্টার সিনড্রোম।

১৯৭৮ সালে Dr. Pauline R. Clance এবং Dr. Suzanne A. Imes তাঁদের প্রবন্ধে (The Impostor Phenomenon in High Achieving Women: Dynamics and Therapeutic Intervention)

ইম্পোস্টার সিনড্রোম নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, অনেক সাফল্য পাওয়া নারীদের মধ্যে এটি দেখা যায়। তাঁরা মূলত সেসব নারীদের নিয়েই গবেষণা করেন।

পরে অবশ্য, বিভিন্ন রিসার্চ থেকে জানা যায় যে, শুধুমাত্র নারী না, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই ইম্পোস্টার সিনড্রোমের মধ্যে দিয়ে যায়।

“দ্য সিক্রেট থটস অব সাক্সেসফুল উইমেন’ বইয়ের লেখক ভ্যালেরি ইয়াং একজন ইম্পোস্টার সিনড্রোম বিশেষজ্ঞ। ইম্পোস্টার সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আচরণে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য তিনি খুঁজে পেয়েছেন:

১.পারফেকশনিস্ট : (The Perfectionist)

পারফেকশনিস্ট মানুষজন তাদের কাজেকর্মে সবকিছুতেই নিঁখুত হতে চেষ্টা করেন। ৯৯% শতাংশ সফল হলেও তারা নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন। এবং নিজেদের দোষারোপ করে তাদের কর্মদক্ষতা সম্পর্কে সন্দিহান প্রকাশ করতে থাকেন। কারণ ১০০% পারফেকশন না থাকলে সেই সাফল্যকে তারা সাফল্য হিসেবে মানতে চান না।

২.সহজাত প্রতিভাবান(The Natural Genius ) :

কিছু মানুষ আছে যারা জন্ম থেকেই প্রতিভাবান। এমন ন্যাচারালি জিনিয়াস মানুষজনের মধ্যে মাঝে মাঝে একটা ধারণা জন্মায় যে, কোনো কাজ তারা একবারের চেষ্টাতেই পারবেন। কোনো কাজে তাদের বেশি পরিশ্রম দিতে হবে না। কিন্তু কোনো কাজে তারা যদি সেটা করতে না পারেন বা অন্য কথায়, যদি তারা কোনও কিছু আয়ত্ত করতে দীর্ঘ সময় নেয় তবে তারা লজ্জা বোধ করেন । তাহলে তাদের মধ্যে ইম্পোস্টার সিনড্রোম দেখা দেয়।

৩. সুপারম্যান বা সুপারওম্যান: ( The Superman/Superwoman)

এই টাইপের ব্যক্তিরা নিজেদেরকে জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সফল দেখতে বদ্ধপরিকর। আশেপাশের মানুষদের থেকে তারা সর্বদা একধাপ বেশি পরিশ্রম করতে চান শুধু এ কারণে যে তাদেরকে প্রমাণ করতেই হবে, তারা অযোগ্য নন। একজন ইম্পোস্টার নই আমি- শুধু এ ধারণাটি প্রতীয়মান করার জন্য তারা সবসময় নিজেদের উপর চাপ তৈরি করতে থাকেন।

৪. The Soloist: (একাকী মননের ব্যক্তি)

“আমার কারো সাহায্যের দরকার নেই আমি সব নিজেই করতে পারবো।”এই ধরণের স্বাধীনচিন্তা থাকা ভালো। পরনির্ভর না হয়ে নিজের প্রতি দায়িত্ব নেওয়া। কিন্তু যদি কেউ সর্বদা অন্যের সাহায্যকে প্রত্যাখ্যান করে সর্বদা একলা চলো নীতিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকেন এইভেবে যে, কারো কাছে সাহায্য চাইলে তাকে অন্যেরা প্রতারক বা ব্যর্থ মনে করতে পারে। এই ভয়ে সে নিজেকে সাহায্য চাওয়া থেকে বঞ্চিত রাখেন তবে বিষয়টি ইম্পোস্টার সিনড্রোম এর ইঙ্গিত দেয়।

৫.বিশেষজ্ঞ (The Expert) :

বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা যেকোনো কাজে হাত দেওয়ার আগে সে সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। আর তারা মনে করেন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের সকল তথ্য ও জ্ঞান অর্জন করতেই হবে। কর্মক্ষেত্রে বা কোনো মিটিং চলাকালীন তারা কোনো রকম প্রশ্ন করেন না। কারণ তাদের ভেতর ভয় কাজ করে, তারা ভাবে যদি ঐ প্রশ্ন তাকে অন্যদের সামনে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয় বা সবাই তাকে বোকা মনে করেন

গবেষণায় জানা যায় ৭০শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো সময় ইম্পোস্টার সিনড্রোম এ ভোগেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বা নানান পেশার মানুষ যেমন মায়া অ্যাঞ্জেলো, মিশেল ওবামা ,অস্কার জয়ী অভিনেতা টম হাংকস
বা পেনেলোপ এই বিখ্যাত মানুষগুলোও এই ইম্পোস্টার সিনড্রোম এ ভুগেছেন।

মায়া অ্যাঞ্জেলো, পুরষ্কার প্রাপ্ত লেখক একবার তার ১১ তম বই প্রকাশের পরে বলেছিলেন যে প্রতিবার তিনি অন্য একটি লেখার জন্য নিজেকে ভাববেন: “আহ-ওহ, তারা এখন উপলব্ধি করবে। আমি প্রত্যেকের উপর একটি খেলা চালিয়েছি ।”

টম হাংকস এক রেডিও সাক্ষাতকারে বলেছেন-
“আমি কী করেছি সেটা বিষয় নয়। বিষয়টা হলো কিভাবে এখানে এলাম। যখন মনে হয় আসলে আমি একজন প্রতারক এবং এটিই সব কিছু নিয়ে যায় আমার কাছ থেকে।”

ইম্পোস্টার সিনড্রোম কাটিয়ে ওঠার কয়েকটি উপায় :

১. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হন। আপনি একা নন। আপনার অনুভুতিগুলো প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। আমাদের মধ্যে অনেকেই এই সমস্যার সম্মুখীন।

২.নিজের কাজকে নিজে স্বীকৃতি দিন। তাহলে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

৩.নিজের অর্জন ও যোগ্যতার একটি তালিকা তৈরি করুন। ভাগ্যই আপনার সব অর্জনের মূলে কিন্তু যখন কাগজে আপনার অর্জন গুলি লিখবেন তখন মনে হবে এ চিন্তা হাস্যকর।

৪.যারা পারফেকশনিস্ট তাদের একটা ভালো দিক হল যে, তারা কোনো কাজ অতি যত্ন সহকারে করতে চান এবং নিখুঁত করে তুলতে নিয়মিত পরিশ্রম করেন । কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে যে , এই কাজের জন্য একেবারে যন্ত্রের মতো অমানবিক ভাবে খাটলে চলবে না । রুটিনের বাঁধা ধরা নিয়মের বাইরে একটু রিলাক্স ভাবে কাজ করবে হবে । আর কাজে কোনো ভুল হলে নিজেকে ক্ষমা করতে হবে ।

৫. সাফল্যের সঙ্গে ব্যর্থতাকেও মেনে নিতে শিখুন । কারণ সাফল্যের সিঁড়িই হল ব্যর্থতা ।

৬. নিজেকে নিজে মূল্যায়ণের আগে অন্যের ফিডব্যাক গ্রহণ করুন । কারণ অন্যের চোখে দেখা নিজেকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় ।

৭. সকলেই আলাদা আলাদা ক্ষমতা সম্পন্ন । তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের পূর্বের কাজের সঙ্গে বর্তমান কাজের দক্ষতার তুলনা করুন ।

সর্বশেষে একটি কথা মনে রাখবেন , আপনার জীবনের একটি মহান উদ্যেশ্য রয়েছে । আপনার জীবনে আপনিই সেরা । আর আপনি নিজেকে যতটা ভাবেন , তার চেয়েও বেশি ক্ষমতা আপনার আছে । নিজেকে আপনি যতটুকু স্মার্ট মনে করেন , তার চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট আপনি । আর যতটুকু কৃতিত্ব নিজেকে দিয়ে থাকেন তার চেয়ে অনেকগুন বেশি কৃতিত্ব ধারণের অধিকার আপনার রয়েছে । তাই এই কথাগুলো আপনি নিজেকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে ভুলবেন না । মনে রাখবেন আপনার চেয়ে আপন কেউ নেই আপনার , যে আপনাকে উজ্জীবিত করে তুলতে পারে।

আশা করি ইম্পোস্টের সিনড্রোম নিয়ে আমাদের লেখাটি আপনাদের ভালো লাগবে। ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো। এই ধরনের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটিতে যুক্ত থাকো।

The post ইম্পোস্টার সিনড্রোম কী ? আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন না তো ? appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/imposter-syndrome-solutions/feed/ 0
মানসিক স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং তা ভালো রাখার কয়টি উপায় https://preronajibon.com/ways-to-improve-mental-health/ https://preronajibon.com/ways-to-improve-mental-health/#respond Sun, 23 Feb 2020 13:52:49 +0000 https://preronajibon.com/?p=1182 4 Minute Readমানসিক স্বাস্থ্য কি ? :- মানসিক স্বাস্থ্য কী তা বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে স্বাস্থ্য কী ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

The post মানসিক স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং তা ভালো রাখার কয়টি উপায় appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
4 Minute Read

মানসিক স্বাস্থ্য কি ? :-

মানসিক স্বাস্থ্য কী তা বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে স্বাস্থ্য কী ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO এর মতে স্বাস্থ্য হল ব্যক্তির শারীরিক , মানসিক এবং সামাজিক এই তিন অবস্থার একটি সুস্থ সমন্বয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি ,একজন মানুষের স্বাস্থ্য হল রোগবালাই মুক্ত সুস্থ শরীর ও সেই সঙ্গে ভয় ,হতাশা ,বিষন্নতা ,মানসিক চাপ থেকে মুক্ত মন এবং সমাজের নানাবিধ চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করতে সক্ষম মন। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে , স্বাস্থ্যের অন্যতম উপাদান হল মনের সুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্য। মানুষের চিন্তা ,আবেগ ও আচরণ এই তিন মিলেই হল মানসিক স্বাস্থ্য। এককথায় মানসিক স্বাস্থ্য বলতে বোঝায়

“ Full and harmonious functioning of whole personality “.

আমাদের প্রত্যেককেই কোনো না কোনো সময়ে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয় তা সে কর্মজীবনে হোক বা ব্যক্তিগত জীবনে। অনেক সময় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হতে গিয়ে আমাদের মানসিক অবসাদ , বিষন্নতার শিকার হতে হয়। আমরা যখন দেখি আমাদের স্বাভাবিক কাজগুলি ব্যাহত হচ্ছে তখনি মানসিক অসুস্থতার প্রশ্নটি সামনে আসে। দেখা যায় যে ,আমরা শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা সচেতন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ততটা সচেতনতা দেখাই না। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে তা শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ভীষণ ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ শারীরিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।

WHO এর তথ্য থেকে জানা যায় যে প্রায় ৭.৫% ভারতীয় কোনো না কোনো প্রকার মানসিক সমস্যার শিকার। এদেশে আক্রান্তের পরিমান বিশ্বের মোট আক্রান্তের প্রায় ১৫%, আরও চিন্তার বিষয় হলো WHO এর মতে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলিতে আরও বেশি মানুষ এই মানসিক অবসাদের শিকার হবে। কিন্তু বর্তমানের এই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থায় কি এর সুরাহা সম্ভব নয় ? যদিও এই সমস্যার সমাধানে চিকিৎসকরা সাহায্য করতেই পারেন, কিন্তু আমাদের দেশে এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য রয়েছে মাত্র ৪০০০ থেকে ৪৫০০ সাইক্রাটিস্ট।

মানসিক সমস্যার রূপ গুলি নানা প্রকার। যেমন – অবসাদ , মানসিক উদ্বিগ্নতা ,এছাড়াও রয়েছে স্কিৎজোফ্রেনিয়া এবং বাইপোলার সমস্যা।

মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব :-

সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য শরীরকে সুস্থ রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হল মনকে সুস্থ রাখা। ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে সে –

ক) দৈনন্দিন কাজকর্ম সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
খ ) বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।
গ ) পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে চলতে পারে। স্বাভাবিক ও সুষ্ঠ অভিযোজনে সক্ষম হয়।
ঘ ) বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ঙ ) আরও উৎপাদনশীল হয়ে ওঠে এবং নিজের ও সমাজের উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।

-: মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় :-

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আমরা যা যা করতে পারি –

১ ) নিজের যত্ন নাও :-

মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ পেতে নিজের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা রাখো , নিজের মনের কথা শোনো ,বই পড়ো গান শোনো। অতীত ও ভবিষ্যৎ ভুলে বর্তমানে থাকার চেষ্টা করো।

২ ) পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ :-

বিভিন্ন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এটাই দেখেছেন যে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার কেবল আমাদের শরীরকেই নয় , মনকেও ভালো রাখে। অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটি খাবার আমাদের বিষন্নতার জন্য মারাত্মক দায়ী। ভিটামিন বি -১২, ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আমাদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তাজা ফলমূল ও সবজি একটা বড় ভূমিকা রাখে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে।পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ফলে শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যই সুস্থ থাকে।

৩) পর্যাপ্ত ঘুম :-

শরীর সুস্থ রাখতে যেমন পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই তেমনই মনকে সুস্থ রাখতেও ঘুমের কোন বিকল্প নেই। কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আমাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে ফলে আমরা ক্লান্তিবোধ করি , কমে যায় কর্মস্পৃহাও। ঘুমের সময় আমাদের শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলি সারিয়ে তোলে আমাদের মন ও মেজাজকে চাঙ্গা রাখে। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি।

জেনে নিন : ঠিকমতো ঘুম না হলে যে ৮ টি মারত্মক সমস্যা হতে পারে

৪) নিয়মিত ব্যায়াম :-

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শারীরিক ব্যায়াম খুবই জরুরি। স্ট্রেস ও বিষন্নতা কাটাতে ব্যায়াম ভীষণ কাজে আসে। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে , ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। তাই মনকে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যেস গড়ে তোলো।

৫) শখের কাজ করো :-

নিজের শখের কাজগুলি করতে পারলে মন ভালো থাকে, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। দুশ্চিন্তা মাথায় আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। যেমন – বাগান করা , রান্না কিংবা সেলাই করা, নতুন কোনো কিছু শেখা ইত্যাদি। ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

জেনে নিন : টেনশন থেকে মুক্তির ৫ টি উপায়

৬) নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো:-

নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়। আমরা কেউই নিখুঁত নই। অন্যের সাথে নিজের তুলনা করে নিজের দুর্বলতাগুলো নিয়ে চিন্তা করা বোকামির কাজ। এতে করে হীনমন্যতা ,হতাশা ,বিষন্নতা বৃদ্ধি পায়। তার থেকে নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে কিংবা তা দূর করার প্রয়াস করলে নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়বে।

৭) কৃতজ্ঞ থাকা :-

সারাদিন কি কি পেয়েছো তার একটা লিস্ট বানাও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো। যা পাও নি তা নিয়ে কষ্ট পেও না, যতটুকু পেয়েছো তাতে খুশি থাকার চেষ্টা করো এতে করে মনের ভেতর ইতিবাচকতা জন্ম নেবে।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়

৮) প্রিয়জনদের সঙ্গে বেশি করে সময় কাটাও :-

প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটালে মন সুস্থ থাকে। নিজেকে ঘরবন্দি রাখলে হতাশা ও দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকবে ফলে মানসিক সমস্যার দেখা দিতে পারে। বন্ধুবান্ধব ,পরিবারের সাথে মন খুলে মেশো। একটু হাসি একটু আলিঙ্গন মনকে সুস্থ করে তুলতে দারুন উপযোগী।

৯) সক্রিয় থাকো :-

অলস হয়ে বসে থাকলে নানা দুশ্চিন্তা মাথায় ভিড় জমাতে থাকে। তাই সবসময় কাজের মধ্যে থাকো তাহলে মন এমনিতেই ভালো থাকবে।

১০) ক্ষমা করো : –

দীর্ঘদিন ধরে কারো প্রতি ক্ষোভ জমতে থাকলে মানসিক অসুস্থতার সূত্রপাত হতে পারে। তাই ক্ষমা করে দাও ক্ষমাই পারে মানসিক প্রশান্তি দান করতে। ক্ষমা করো সুস্থ থাকো।

এতক্ষন ধরে যে উপায়গুলো বলা হলো সেগুলো আমাদের হাতে রয়েছে যা অবলম্বন করে আমরা মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারি। । কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সমস্যা নিরাময় এর জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শারীরিক ক্ষতি ভালো হলেও মানসিক ক্ষতি সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। আমাদের চারপাশে রোজ কিছু নৃশংস ঘটনা ঘটছে , যারা ভুক্তভোগী তাদের মধ্যে সাংঘাতিক মানসিক চাপ ,ভয় ,বিষন্নতা,হতাশাসহ নানা ধরণের মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের উচিত তাদের পাশে থাকা ,তাদের হেয় চোখে না দেখে কিভাবে তারা পুরোপুরি সুস্থ জীবন পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

আশাকরি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় গুলি তোমাদের কাজে লাগবে আর এই ধরনের লেখার আপডেট পেতে নিচের বেল আইকনে ক্লিক করে আমাদের ওয়েবসাইটের সমস্ত নোটিফিকেশন নিজের মোবাইলে পেয়ে যাও। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করো।

This Article is Written By – Ferdousi Manjira (Founder of Preronajibon.com)

The post মানসিক স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং তা ভালো রাখার কয়টি উপায় appeared first on প্রেরণাজীবন.

]]>
https://preronajibon.com/ways-to-improve-mental-health/feed/ 0